স্মার্টফোন থাকলেও চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ!, এই তালিকায় নিজের ফোন নেই তো?

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। আর সেই স্মার্টফোনে যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার যদি কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তবে বড়সড় বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক কোটি গ্রাহক। বিশ্বখ্যাত মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) সম্প্রতি এমনই এক ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছে, যা ঘুম উড়িয়েছে পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের।
৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই বিপদ! প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং নিরাপত্তার খাতিরে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বড়সড় আপডেট আনতে চলেছে। জানা গেছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বেশ কিছু পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে এই মেসেজিং পরিষেবা। বিশেষ করে যাঁদের ফোনে এখনো অ্যান্ড্রয়েড ৫ (Android 5) বা তার চেয়ে পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, তাঁদের ফোনে আর কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ। শুধু মেসেজ পাঠানো নয়, কল করা কিংবা স্ট্যাটাস আপডেটের মতো কোনো ফিচারই আর সচল থাকবে না এই ডিভাইসগুলোতে।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নতুন ফিচার যোগ করতে গেলে উন্নত হার্ডওয়্যার এবং আধুনিক সিকিউরিটি সফটওয়্যার প্রয়োজন। পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। হ্যাকারদের নজরদারি রুখতে এবং অ্যাপের পারফরম্যান্স উন্নত রাখতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ।
আপনার ফোন কি এই তালিকায়? এখনই যা করবেন: আপনার স্মার্টফোনটি এই পরিবর্তনের আওতায় পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে ফোনের ‘Settings’ থেকে ‘About Phone’ অপশনে গিয়ে ‘Android Version’ দেখে নিন। যদি আপনার ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ৫ বা তার আগের সংস্করণের হয়, তবে আপনার জন্য কয়েকটি জরুরি পরামর্শ:
-
দ্রুত ব্যাকআপ নিন: সাপোর্ট বন্ধ হওয়ার আগেই আপনার প্রয়োজনীয় চ্যাট, ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গুগল ড্রাইভ বা অন্য কোনো ডিভাইসে ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন।
-
সফটওয়্যার আপডেট: যদি ফোনে নতুন কোনো অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পেন্ডিং থাকে, তবে তা দ্রুত ইনস্টল করে নিন।
-
নতুন ডিভাইসে স্থানান্তর: আপনার ফোনটি যদি আর আপডেট না পায়, তবে নতুন ও আধুনিক কোনো স্মার্টফোনে সুইচ করার পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মনে রাখবেন, শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়, নিরাপত্তার খাতিরে ভবিষ্যতে আরও অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখাই হবে আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।