ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যের পর অবিশ্বাস্য মোড়! মার্কিন মুলুকে ২ লক্ষ কোটির ধামাকা দিচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি চললেও, ব্যবসার ময়দানে ভারতের দাপট এখন অপ্রতিরোধ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬’-এ ভারতীয় সংস্থাগুলো এমন এক বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে, যা খোদ হোয়াইট হাউসকেও চমকে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সংস্থাগুলি সে দেশে ২০.৫ বিলিয়ন ডলার— অর্থাৎ প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এক দিনেই ১.১ বিলিয়ন ডলারের চমক!
শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১২টি ভারতীয় বড় সংস্থা মোট ১.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। প্রযুক্তি, উৎপাদন, ওষুধ শিল্প এবং সাপ্লাই চেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে ভারতীয় পুঁজির এই ব্যাপক অনুপ্রবেশ মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বৈপরীত্য: ট্রাম্পের তোপ বনাম ভারতের লক্ষ্য
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিনিয়োগ এমন এক সময়ে আসছে যখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা তুঙ্গে। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে ‘নরক’ বলে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তার রেশ এখনও কাটেনি। অভিবাসন নীতি ও ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি এবং ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর ক্রমাগত চাপের মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভারতীয় পুঁজির ওপর নির্ভরতা আমেরিকার দ্বিমুখী অবস্থানকেই স্পষ্ট করছে।

“মানুষকে ঘৃণা করি, টাকাকে ভালোবাসি”
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই বিনিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিরাট জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভারত এখন আর শুধু বিদেশি বিনিয়োগের গন্তব্যস্থল নয়, বরং বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করার মতো পুঁজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখন ভারতীয় সংস্থা
এই প্রথম নয়, গত দেড় দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস, এবং ইস্পাত খাতে এসসার ও জেএসডব্লিউ স্টিলের মতো সংস্থাগুলি হাজার হাজার আমেরিকান নাগরিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে সান ফার্মা, ডঃ রেড্ডি’স এবং সিপলার মতো ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে আমেরিকার জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের প্রধান ভরসা।

একটা সময় ছিল যখন আমেরিকায় ভারতীয়দের কেবল ‘আউটসোর্সিং’ বা ব্যাক-অফিস কর্মী হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই ছবিটা আমূল বদলে গেছে। আজ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো আমেরিকার মাটিতে কারখানা গড়ছে, গবেষণা কেন্দ্র খুলছে এবং স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও মার্কিন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভারতের এই ‘মেগা ইনভেস্টমেন্ট’ বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তিরই জয়জয়কার।