ভোপাল টু দুবাই: সপ্তাহে ৩ দিন শিকার, ৫ বছরে ১০০০ প্রাণবলি! বন দপ্তরের অভিযানে ফাঁস আন্তর্জাতিক পাচারচক্র

মধ্যপ্রদেশের গভীর অরণ্যে গত পাঁচ বছর ধরে চলা এক ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের পর্দাফাঁস করল বন বিভাগ। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ভোপালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্রটি কেবল স্থানীয় স্তরেই নয়, বরং দুবাই পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর মাংস সরবরাহ করত। গুনা জেলার বিনাগঞ্জ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল পান্ডাদের জালে তুলেছে বন বিভাগ।

৫ বছরে ১০০০ বন্যপ্রাণী নিধন
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ শিকারি দল নয়, বরং একটি সুসংগঠিত পেশাদার অপরাধী চক্র। রাইসেন, গুনা, নর্মদাপুরম এবং সিরোঞ্জের জঙ্গলে তারা নিয়মিত সক্রিয় ছিল। সপ্তাহে অন্তত তিনবার শিকারে বেরোত এই দল। গত পাঁচ বছরে তারা কমপক্ষে ১,০০০টি বন্যপ্রাণী হত্যা করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বছরে ২০০টিরও বেশি প্রাণী শিকার ছিল তাদের লক্ষ্য।

সাংকেতিক ভাষায় চলত অপারেশন
নিজেদের নিরাপদ রাখতে এবং পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এই চক্রটি অত্যন্ত ধূর্ত পদ্ধতিতে কাজ করত। ফোনের কথোপকথনে তারা নির্দিষ্ট কিছু সাংকেতিক শব্দ বা ‘কোড ওয়ার্ড’ ব্যবহার করত। যেমন:

ঘোড়া: হরিণ

হাতি: নীলগাই

কুকুর: কৃষ্ণসার হরিণ

দেশলাই কাঠি: বন্দুক

তিলি: কার্তুজ

বন বিভাগ জানিয়েছে, বাজারে কৃষ্ণসার হরিণের মাংসের আকাশছোঁয়া চাহিদা থাকায় এই চক্রটি চড়া দামে তা বিক্রি করত।

ভোপাল থেকে দুবাই: পাচারের রুট
তদন্তে জানা গেছে, ভোপাল ছিল এই মাংস মজুত ও সরবরাহের প্রধান আস্তানা। সেখান থেকেই বিভিন্ন হোটেল এবং আন্তর্জাতিক খদ্দেরদের কাছে মাংস পাঠানো হতো। বাজারে প্রতি কেজি হরিণের মাংসের দাম ছিল প্রায় ৮০০ টাকা এবং নীলগাইয়ের মাংস মিলত ২৫০ টাকা কেজিতে। এমনকি পাচারের জন্য তারা এমন সব পুরোনো গাড়ি ব্যবহার করত, যা বিক্রির জন্য শোরুমে রাখা থাকত, যাতে মালিকানা শনাক্ত করা না যায়।

রক্ষকই যখন ভক্ষক: অবসরপ্রাপ্ত বনরক্ষীর যোগসূত্র
এই ঘটনার সবথেকে বিতর্কিত দিক হলো বন বিভাগের নিজস্ব একজন প্রাক্তন কর্মীর নাম জড়িয়ে পড়া। অভিযোগ উঠেছে, এক অবসরপ্রাপ্ত বনরক্ষী এই চক্রটিকে বনের ভৌগোলিক অবস্থান, শিকারের গোপন পদ্ধতি এবং মাংস কেনাবেচায় প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর ব্যাংক লেনদেনের অকাট্য প্রমাণও উদ্ধার হয়েছে।

বন বিভাগের আধিকারিকদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। আগামী দিনে তদন্তের পরিধি বাড়লে এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।