ফ্ল্যাট মালিকদের পোয়াবারো! ২০-৩০ লাখ নয়, এখন মাত্র ১০০০ টাকায় হবে নাম পরিবর্তন; নয়া নির্দেশিকা জারি

উত্তরপ্রদেশের ফ্ল্যাট মালিক ও আবাসন ক্রেতাদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল ‘ইউপি রেরা’ (UP RERA)। বাড়ি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নামে বিল্ডারদের দীর্ঘদিনের ‘গুন্ডামি’ ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারবারে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নামমাত্র ফি দিতে হবে গ্রাহকদের।

২৫ লাখের ধাক্কা এখন মাত্র হাজারে!
ইউপি রেরা-র চেয়ারম্যান সঞ্জয় ভূসরেড্ডি জানিয়েছেন, এতদিন অনেক বিল্ডার মৃত ফ্ল্যাট মালিকের উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তরের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ফি দাবি করা হতো, যার ফলে হস্তান্তর ফি বাবদ খরচ দাঁড়াত ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে রেরা তাদের ৪৭ নম্বর প্রবিধান সংশোধন করেছে। এখন থেকে পরিবারের সদস্য বা রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের নামে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি বাবদ সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না বিল্ডাররা।

বাইরের ব্যক্তির জন্য ফি কত?
যদি ফ্ল্যাটটি পরিবারের বাইরের কোনো ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়, তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫,০০০ টাকা। রেরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনো নতুন বিক্রয় বা ইজারা চুক্তি (Lease Deed) করার প্রয়োজন নেই। বরাদ্দগ্রহীতা যখন ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে দিয়েছেন, তখন অতিরিক্ত ফি নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং অবৈধ।

প্রয়োজনীয় নথি ও নিয়ম:
মালিকানা হস্তান্তরের জন্য উত্তরাধিকারীকে কিছু প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

মূল মালিকের মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate)।

উত্তরাধিকার শংসাপত্র (Succession Certificate)।

অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC)।

সাফল্যের খতিয়ান ও রিয়েল এস্টেটের জোয়ার:
ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় ইউপি রেরা গত এক বছরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিকভারি সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন আইনি নিষ্পত্তির মাধ্যমে বরাদ্দপ্রাপ্তদের প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। রেরা দিবসের তথ্য বলছে, উত্তরপ্রদেশে রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ হু হু করে বাড়ছে। শুধুমাত্র লখনউতেই ২০২৫ সালে ৬৭টি নতুন প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছে এবং গত তিন বছরে দুই লক্ষেরও বেশি আবাসন তৈরি করা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের সাফ বার্তা, আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বিল্ডারদের যে কোনো ধরনের অন্যায্য দাবি রুখতে রেরা আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।