১২.৭৫ লক্ষ পর্যন্ত আয় করলেও দিতে হবে না এক পয়সাও ট্যাক্স! নতুন না কি পুরনো— কোন নিয়মে পকেট ভরবে আপনার?

আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, চাকরিজীবী থেকে ব্যবসায়ী— প্রত্যেকের মনেই এখন একটাই প্রশ্ন: নতুন কর ব্যবস্থা (New Tax Regime) না কি পুরনো (Old Tax Regime)? কোনটা বেছে নিলে পকেটে টান কম পড়বে? সম্প্রতি কম কর হার এবং অত্যন্ত সহজ পদ্ধতির জন্য নতুন কর ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বিশেষ করে বেতনভোগী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এখন ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে শূন্য করের সুবিধা মিলছে। আর এতেই উৎসাহিত হয়ে বহু করদাতা বিস্তারিত চিন্তা না করেই নতুন নিয়মে ঝাঁপ দিচ্ছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থা সহজ হলেও কেন সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা?
নতুন কর ব্যবস্থায় করের হার অনেকটাই কম, কিন্তু এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছাড়। উল্টোদিকে, পুরনো কর ব্যবস্থায় করের হার কিছুটা বেশি হলেও এতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর বাঁচানোর পাহাড়প্রমাণ সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধুমাত্র কম করের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল। কারণ আপনার সঞ্চয় এবং খরচের ধরনই ঠিক করে দেবে কোন পথে হাঁটলে আপনার লাভ বেশি।

পুরনো কর ব্যবস্থার তুরুপের তাস
যাঁরা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় বা জীবন যাপনে নির্দিষ্ট খরচ করেন, তাঁদের জন্য পুরনো কর ব্যবস্থা এখনও আশীর্বাদ হতে পারে। এখানে আপনি পাবেন:

বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA): আপনি যদি ভাড়াবাড়িতে থাকেন, তবে এই ছাড় আপনার করযোগ্য আয় অনেকটা কমিয়ে দেয়।

বিনিয়োগের সুবিধা: জীবন বীমা, পিপিএফ (PPF) বা সন্তানদের পড়াশোনার খরচের ওপর বড় ছাড় মেলে এখানে।

ভ্রমণ ভাতা (LTC): সপরিবারে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এলটিসি-র মাধ্যমে কর সাশ্রয় সম্ভব।

উভয় ব্যবস্থায় কোন কোন সুবিধা মিলবে?
নতুন বা পুরনো— আপনি যে ব্যবস্থাই বেছে নিন না কেন, কিছু সাধারণ সুবিধা অপরিবর্তিত থাকছে। যেমন:

খাবার ভাউচার: প্রতি বেলায় খাবারের ভাউচারে এখন ২০০ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ছিল মাত্র ৫০ টাকা।

উপহার ও ভাউচার: ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত উপহার বা ভাউচার এখনও করমুক্ত রাখা হয়েছে।

অফিস গাড়ি: কোম্পানি থেকে পাওয়া গাড়ির সুবিধার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হার অনুযায়ী করমুক্ত সুবিধার সুযোগ রয়েছে।

শেষ তারিখ এবং সময়সীমা
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মনে রাখবেন, ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের (Assessment Year) জন্য ডেডলাইন হলো ৩১ জুলাই, ২০২৬। বর্তমান রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে নতুন অনেক নিয়ম প্রযোজ্য না হলেও, আগামী বছরের পরিকল্পনার জন্য এখনই প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।

পেশাদারের পরামর্শ: না দেখে পা দেবেন না
আপনার আয় যদি ১২ লক্ষ টাকার ওপরে হয় এবং আপনার যদি বিপুল সঞ্চয় বা হোম লোন না থাকে, তবে নতুন ব্যবস্থা আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক। কিন্তু যদি আপনি ৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগ ও ছাড়ের (HRA, 80C ইত্যাদি) দাবি করতে পারেন, তবে পুরনো ব্যবস্থাই আপনাকে বেশি সঞ্চয় দেবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে, নিজের আয় ও খরচের সঠিক হিসেব কষে তবেই আইটিআর দাখিল করুন। সঠিক একটি সিদ্ধান্তই আপনার বছরের অনেকগুলো টাকা বাঁচাতে পারে।