ফলাফল আসতেই অশান্ত বাংলা! ভাঙড় থেকে বীরভূম—দিকে দিকে তাণ্ডব, চরম বিপাকে পড়ে এবার কড়া দাওয়াই কমিশনের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার মাটি। দক্ষিণ থেকে উত্তর—রাজ্যের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ভোট-পরবর্তী হিংসার আগুন। কোথাও আক্রান্ত শাসক দল, আবার কোথাও অভিযোগের তির খোদ বিজয়ীদের দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এক চুলও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।

ভাঙড় থেকে নানুর: হিংসার বলি দুই?
ভোট মিটতেই বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, আবির শেখ নামে ওই কর্মীকে একা পেয়ে আক্রমণ করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, জয়ের আনন্দ করার অপরাধে তৃণমূল আশ্রিতরা বছর ৪৮-এর যাদব বরকে পিটিয়ে খুন করেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

তৃণমূলের দফতরে হামলা, শিলিগুড়িতেও তাণ্ডব
রাজ্যজুড়ে প্রায় শতাধিক তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাঙড়, বারুইপুর, কৃষ্ণনগর থেকে বর্ধমান—একের পর এক জায়গায় ঘাসফুল শিবিরের কার্যালয়ে আগুন ও দখলের খবর সামনে এসেছে। এমনকি শিলিগুড়িতে মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডেও তৃণমূল কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে দাবি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আইএসএফ ও বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা কোনওরকম অশান্তিতে যুক্ত নন।

কমিশনের কড়া দাওয়াই
রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে নবান্নকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব ও ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানেই গোলমাল হবে সেখানে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে সিআরপিএফ (CRPF)-কে টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন, কোনও রাজনৈতিক রঙের তোয়াক্কা না করে দ্রুত শান্তি ফেরাতে হবে।

পাল্টা সুর শমীক-অভিষেকের
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “জয়ের আনন্দে কেউ যেন আইনি পথে না যায়।” তিনি একইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।

বাংলার এই রক্তাক্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বর্তমানে সারা রাজ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, নির্বাচনের লড়াই কি তবে শুধু ব্যালটেই সীমাবদ্ধ থাকল না?