শ্যামপুকুরে হারের পরেই রণক্ষেত্র! নেত্রীর ছায়াসঙ্গীর বাড়িতে হামলা, ‘সুবিধাবাদী’ তকমা দিয়ে কাদের দিকে আঙুল তুললেন শশী পাঁজা?

বাংলার মসনদ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষত এখনো টাটকা, তার ওপর জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র শ্যামপুকুরে হারের পর এবার সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে সরব হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী ডা. শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন জনপদে এখন চলছে ‘জোরপূর্বক’ দখলের রাজনীতি।

শ্যামপুকুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
এবারের নির্বাচনে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন শশী পাঁজা। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক ট্যুইটার) একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফল বেরোতেই ‘সুবিধাবাদী’ কিছু বিজেপি কর্মী তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক ক্লাব দখল করে নিচ্ছে। ডা. পাঁজা আরও অভিযোগ করেছেন যে, সোমবার রাতে তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত শুভমের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শশী পাঁজার ভাষায়, এটাই কি বিজেপির কাঙ্ক্ষিত ‘পরিবর্তন’?

নতুনে আস্থা কি তবে কাল হলো তৃণমূলের?
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এবার টিকিট বন্টনের ক্ষেত্রে তৃণমূলের অতি-সতর্কতা বা বড়সড় রদবদলই দলের হারের অন্যতম কারণ। রাজ্যের প্রায় ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে এবার টিকিট দেয়নি ঘাসফুল শিবির। ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে এবং তারুণ্য আনতে দেবাংশু ভট্টাচার্য বা বসুন্ধরা গোস্বামীর মতো নতুন মুখদের ওপর ভরসা করেছিল কালীঘাট। কিন্তু ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেই কৌশলে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে ঘাসফুলের।

চুঁচুড়া: তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হলেও, বিজেপির সুবীর নাগের কাছে হারতে হয়েছে তাঁকে।

রানিবাঁধ ও মানিকচক: জ্যোৎস্না মান্ডি বা সাবিত্রী মিত্রের মতো অভিজ্ঞদের সরিয়ে নতুন মুখ আনলেও সেই এলাকাগুলোতে শেষ হাসি হেসেছে বিজেপি।

পূর্বস্থলী উত্তর: বাম আমলের মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা বসুন্ধরা গোস্বামীকে প্রার্থী করে চমক দিতে চেয়েছিল তৃণমূল, কিন্তু পদ্ম শিবিরের কাছে সেখানেও হার মানতে হয়েছে।

নোয়াপাড়া ও পানিহাটি: মঞ্জু বসু বা নির্মল ঘোষের মতো অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়ার মাশুল গুনতে হয়েছে দলকে। অর্জুন সিংয়ের মতো হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকতে পারেননি তৃণাঙ্কুররা।

উত্তেজনা তুঙ্গে
শ্যামপুকুরের মতো এলাকায় যেখানে কুমারটুলি, বাগবাজার বা শ্যামবাজারের ঐতিহ্য মিলেমিশে থাকে, সেখানে নির্বাচনের পরবর্তী এই অশান্তি সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিজেপির জয়ে গেরুয়া শিবির যখন উৎসব পালন করছে, তখন পরাজিত তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ— বাংলার ঐতিহ্য আজ বিপন্ন। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, জয়ী হওয়ার পর তাঁদের কর্মীরা কোনো অশান্তিতে লিপ্ত নয়।

শীতের আগেই বাংলায় ঘাসফুল ঝরার পর এখন দেখার, নতুন সরকারের অধীনে উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলো শান্ত থাকে কি না।