ভবানীপুরে পতনের নেপথ্যে কারা? শংসাপত্র হাতেই মমতাকে চরম আক্রমণ শুভেন্দুর, শাহের সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়। ১৫ বছর পর নবান্নের দখল হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ঘাসফুল শিবির। আর এই মহাপ্রলয়ের উপকেন্দ্র হয়ে থাকল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। নিজের চেনা দুর্গেই পরাজিত হলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার রাত ৯টার পর সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ১৮ রাউন্ডের ভোট গণনা শেষ হতেই ভবানীপুরের চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জয়ের শংসাপত্র হাতে যখন শুভেন্দু অধিকারী বাইরে বেরিয়ে আসেন, তখন চারদিকে শুধুই জয় শ্রীরাম ধ্বনি আর গেরুয়া আবিরের উল্লাস। জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

জয়ের কারিগর কারা? মুখ খুললেন শুভেন্দু
উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই জয়কে জনতা এবং দলের আদর্শের জয় হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, “আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন এবং শিখ সমাজ। আমি তাঁদের প্রত্যেককে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। এই জয় আসলে হিন্দুত্বের জয়, এই জয় বাংলার মানুষের জয় এবং সর্বোপরি মোদীজির আদর্শের জয়।”

ভবানীপুরের এই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন সেইসব দলীয় কর্মীদের প্রতি, যাঁরা বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের জন্য যে ৩০০ জন বিজেপি কর্মী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতিই এই জয় আমি উৎসর্গ করছি।”

অমিত শাহের ফোন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শুভেন্দু অধিকারী জানান, জয়ের খবর পাওয়ার পরই তাঁর কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ফোন আসে। রাতেই দীর্ঘক্ষণ তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্থান থেকে যে বিজেপি বিধায়করা বাংলায় এসে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। শুভেন্দু যোগ করেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে বিজেপির এই বিজয় বৈজয়ন্তী ওড়ানোর জন্য আমি বাংলার মানুষের কাছে চিরঋণী।”

চ্যালেঞ্জে জয়ী শুভেন্দু
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে দুই কেন্দ্র— নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে লড়াই করেছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচনের আগেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন যে, ভবানীপুরে মমতাকে হারাবেনই। সেই স্বপ্নই আজ সত্যি হলো। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে পড়েছে ৭৩,৯১৭টি ভোট। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,১১২টি ভোট। অর্থাৎ ১৫,১০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলেন তৃণমূল নেত্রী।

শীত আসার আগেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ঝরল ঘাসফুল। এখন শুধু অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ এবং বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের।