বিজেপির দখলে নবান্ন: মমতার মন্ত্রিসভার যে ২৩ জন মহীরুহের পতন ঘটাল গেরুয়া ঝড়, দেখুন সম্পূর্ণ তালিকা

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনতার রায়ে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখল করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতকালের ভোট গণনার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজ্যের ভাগ্য এবার পদ্মশিবিরের হাতে। ২০৬টি আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেমে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে।
এই নির্বাচনের সবথেকে বড় চমক ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। নিজের খাসতালুকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিপর্যয় কেবল নেত্রীর নয়, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সারথিরাও। নির্বাচন কমিশনের বিধি নিষেধ বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট শেষ হলেই রাজ্যে গঠিত হবে নতুন সরকার। কিন্তু তার আগে দেখে নেওয়া যাক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সেই ২৩ জন ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রীর তালিকা, যাঁদের হারের ধাক্কায় থমকে গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের জয়রথ।
পরাজিত ২৩ জন হেভিওয়েট মন্ত্রীর তালিকা:
১. অরূপ বিশ্বাস (বিদ্যুৎ মন্ত্রী)
২. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (স্বাস্থ্য ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী)
৩. ব্রাত্য বসু (শিক্ষামন্ত্রী)
৪. পুলক রায় (পূর্তমন্ত্রী)
৫. মানস ভুঁইয়া (সেচমন্ত্রী)
৬. শশী পাঁজা (নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী)
৭. সুজিত বসু (দমকল মন্ত্রী)
৮. স্নেহাশিস চক্রবর্তী (পরিবহণ মন্ত্রী)
৯. ইন্দ্রনীল সেন (কারিগরি শিক্ষা ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী)
১০. রথীন ঘোষ (খাদ্যমন্ত্রী)
১১. বেচারাম মান্না (কৃষি বিপণন মন্ত্রী)
১২. মলয় ঘটক (দপ্তরবিহীন মন্ত্রী)
১৩. উদয়ন গুহ (উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী)
১৪. প্রদীপ মজুমদার (পঞ্চায়েত মন্ত্রী)
১৫. সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (গ্রন্থাগার মন্ত্রী)
১৬. গৌতম দেব (শিলিগুড়ির মেয়র)
১৭. স্বপন দেবনাথ (প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী)
১৮. বুলু চিক বরাইক (আদিবাসী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী)
১৯. সত্যজিৎ বর্মন (স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী)
২০. শ্রীকান্ত মাহাতো (ক্রেতা সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী)
২১. বিরবাহা হাঁসদা (বন প্রতিমন্ত্রী)
২২. উজ্জ্বল বিশ্বাস (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী)
২৩. সন্ধ্যারানি টুডু (পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন রাষ্ট্রমন্ত্রী)
এছাড়াও পরাজিত হয়েছেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং প্রান্তিক স্তরে পরিবর্তনের জোয়ারই তৃণমূলের এই বড় বিপর্যয়ের কারণ। বিশেষ করে উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের একাধিক জেলায় যেখানে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানে বিজেপি তাদের দুর্গ ধসিয়ে দিয়েছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং একইসঙ্গে ২৩ জন মন্ত্রীর হেরে যাওয়া রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর বাংলার প্রশাসনিক স্তরে কী কী বড় পরিবর্তন আসে।