বাংলায় ‘রামরাজ্য’! জয়ের পরেই শ্যামাপ্রসাদের ভিটেয় শমীক-মঙ্গল, ‘সোনার বাংলা’ নিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই সোমবার এক আবেগঘন আবহের সৃষ্টি হলো ভবানীপুরে।
শ্যামাপ্রসাদের চরণে জয় উৎসর্গ
রাজ্যে পদ্ম শিবিরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর সোমবার ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এবং পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা মঙ্গল পাণ্ডে এদিন ভবানীপুরে গিয়ে এই তাত্ত্বিক নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। নেতাদের মতে, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শই আজ বাংলাকে এই পরিবর্তনের পথে নিয়ে এসেছে।
কে ছিলেন এই শ্যামাপ্রসাদ?
বিজেপির আজকের এই জয় যেন ১৯৪৭ সালের সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। অবিভক্ত বাংলার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার কারিগর ছিলেন এই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই। ১৯৫১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ভারতীয় জনসংঘ’-ই আজকের বিজেপির উৎস। ফলে বাংলার এই জয়কে তাঁর উত্তরাধিকারের জয় হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির।
একনজরে ছাব্বিশের ফলফল
ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই দখল করেছে ২০৬টি আসন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ৮০ (+১ গণনাধীন) আসনে। কংগ্রেস ২টি এবং হুমায়ুন কবিরের দল ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। বামেরা একটি আসনে জয়লাভ করে কোনোক্রমে বিধানসভায় খাতা খুলতে পেরেছে।
‘সোনার বাংলার নতুন ঊষা’: শুভেন্দু অধিকারী
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ (পূর্বতন টুইটার) বড় বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই জয়কে ‘সোনার বাংলার জন্য এক নতুন ঊষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুভেন্দুর মতে, এই রায় স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘পূর্ব ভারতের উন্নয়ন’ রূপকল্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন।
তিনি আরও যোগ করেন, “এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি থাকা অটল আস্থার জীবন্ত প্রমাণ। এবার রাজ্যের উন্নয়ন জাতীয় স্তরের লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।”
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই এখন রাজ্য জুড়ে সাজ সাজ রব। (ANI)