দুই কেন্দ্রেই জয়ী ‘বাবরির’ হুমায়ুন, কিষাণগঞ্জ টু মুর্শিদাবাদে নতুন সমীকরণ?

২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনে যখন শাসক-বিরোধী বড় শক্তির লড়াইয়ে তোলপাড় রাজ্য, তখন সকলকে চমকে দিয়ে মুর্শিদাবাদের মাটিতে ইতিহাস গড়লেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং ‘বিজেপির সঙ্গে ডিল’ করার মতো গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়েও নওদা ও রেজিনগর— এই দুটি বিধানসভা আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হলেন তিনি।

দুই কেন্দ্রেই গেরুয়া শিবিরের হার, তৃণমূল তৃতীয় এবারের নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের পারফরম্যান্স কার্যত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসাব উল্টে দিয়েছে।

  • নওদা: এই আসনে হুমায়ুন পেয়েছেন ৮৬,৪৬৩ ভোট। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী রাণা মণ্ডলকে ২৭,৯৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

  • রেজিনগর: এখানে জয়ের ব্যবধান আরও বড়। ১,২৩,৫৩৬ ভোট পেয়ে বিজেপির বাপন ঘোষকে ৫৮,৮৭৬ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই দুটি আসনেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে।

বাবরি মসজিদ ও বহিষ্কারের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গত, হুমায়ুন কবীর বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত চরিত্র। একসময় ঘাসফুল শিবিরের দাপুটে নেতা হুমায়ুনকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বহিষ্কার করে তৃণমূল। দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে বেলডাঙা এলাকায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা এবং তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করাই ছিল তাঁর কাল। বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন যে, তৃণমূলকে ‘শিক্ষা দিতে’ তিনি নিজের দল গড়বেন এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা তিনিই ঠিক করবেন।

বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই ভোটের ঠিক আগেই হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ‘ডিল’ করেছেন তিনি। এই ঘটনার পর তাঁর দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র অনেক নেতা-কর্মী দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। রাজনৈতিক মহলের একাংশ ধরে নিয়েছিল যে, হুমায়ুনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবার খাদের কিনারায়। কিন্তু আজকের ফলাফল প্রমাণ করল, মাঠের লড়াইয়ে এখনও নিজের দাপট বজায় রেখেছেন এই প্রবীণ নেতা।

২০১১-তে কংগ্রেস, ২০১৬-তে নির্দল এবং ২০২১-এ তৃণমূলের টিকিটে জেতার পর, ২০২৬-এ নিজের দলের ব্যানারে জোড়া জয়— হুমায়ুন কবীরের এই জয় মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, নবান্নের নতুন সমীকরণে এই ‘নির্ঘাত’ জয়ী নেতা ঠিক কী ভূমিকা পালন করেন।