বিয়ের পিঁড়িতে বসা আর হলো না! কনের বাড়ির দোরগোড়ায় পাত্রকে ঝাঁঝরা করে দিল ঘাতক, শিউরে ওঠা কাণ্ড

বিয়ের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হলো। সানাইয়ের সুর থামিয়ে দিয়ে বেজে উঠল আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জন। বরের সাজে সুসজ্জিত হয়ে মণ্ডপে যাওয়ার পথেই গুলিবিদ্ধ হলেন ২৭ বছর বয়সী যুবক আজাদ বিন্দ। উত্তরপ্রদেশের বিবিপুর এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যার এই নারকীয় ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত গোটা দেশ।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যায়? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাড়ম্বরে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ। বাজনার তালে যখন বরযাত্রীরা মেতে উঠেছিলেন, ঠিক সেই সময়ই ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে প্রদীপ ও রবি যাদব নামে দুই দুষ্কৃতী। অভিযোগ, বাইকে চড়ে এসে আজাদকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে তারা। আচমকা গুলির শব্দে চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন পাত্র।

হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে বরযাত্রীরা দ্রুত আজাদকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু বিধি বাম! চিকিৎসকরা তাঁকে দেখামাত্রই মৃত বলে ঘোষণা করেন। বরের সাজেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে আজাদের দেহ। ঘটনার খবর চাউর হতেই কনের বাড়িতেও কান্নার রোল ওঠে। বিয়ের মণ্ডপ বদলে যায় শোকসভায়।

পুরনো আক্রোশ না কি অন্য কিছু? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূল অভিযুক্ত প্রদীপ এই বিয়েতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। মৃত আজাদের বাবা জানিয়েছেন, প্রদীপ এর আগেও তাঁদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছিলেন এবং একাধিকবার তাঁদের হেনস্থাও করা হয়েছিল। পুলিশ মনে করছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই সুপারি কিলিং বা খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ঘাতকদের খোঁজে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক প্রদীপ এবং তার সঙ্গী রবি যাদবের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত বছর জুনেও দিল্লিতে ভিন জাতে বিয়ে করার অপরাধে এক তরুণীকে তাঁর বাবা খুন করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতি ফের উসকে দিল উত্তরপ্রদেশের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। বিয়ের উৎসবের মাঝে এমন রক্তের হোলি ফের একবার সমাজ ও আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।