জোকায় পুকুরধারে রহস্যময় বস্তা! তীব্র দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিতেই চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের

৪ মে ভোটের ফলের অপেক্ষায় যখন গোটা শহর উত্তেজনায় ফুটছে, ঠিক তখনই খাস কলকাতায় উদ্ধার হল এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বস্তাবন্দি দেহ। শনিবার সকালে জোকা সংলগ্ন ঠাকুরপুকুর থানা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পচাগলা দেহটি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রীতিমতো আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি ঠিক কী? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ জোকা হাঁসপুকুর এলাকার একটি রাস্তার ধারের পুকুর সংলগ্ন জঙ্গলে একটি বড় বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ওই এলাকা থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে তীব্র পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় গ্রামবাসীরা কাছে গিয়ে দেখেন, একটি মুখবন্ধ বস্তা জঙ্গলের ঝোপের আড়ালে পড়ে আছে। খবর দেওয়া হয় ঠাকুরপুকুর থানায়।

পুলিশি তৎপরতা ও প্রাথমিক তদন্ত খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঠাকুরপুকুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। বস্তাটি উদ্ধার করে খোলার পর দেখা যায়, ভেতরে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির দেহ রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। দেহটিতে পচন ধরতে শুরু করায় ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দিন দুয়েক আগে ওই ব্যক্তিকে মেরে বা অন্য কোনোভাবে মৃত্যু হওয়ার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য বস্তাবন্দি করে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

অমীমাংসিত পরিচয় এখনও পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির নাম বা পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ওই ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা নাকি বাইরে থেকে দেহটি এখানে এনে ফেলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আশপাশের থানার নিখোঁজ ডায়েরিগুলির তালিকাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

কলকাতায় লাশের মিছিল? উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই হরিদেবপুরের জেমস লং সরণিতে একটি ফ্ল্যাট থেকে বুলা চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঠাকুরপুকুরের এই বস্তাবন্দি উদ্ধার নতুন করে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।