ভোট গণনা শুরুর আগেই কড়া দাওয়াই কমিশনের! কারচুপি রুখতে মোতায়েন একঝাঁক ‘স্পেশাল’ অফিসার

ভোটগ্রহণ শেষ, এবার নজর ৪ মে-র দিকে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে পারদ। তবে এবার গণনাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কারচুপির বিন্দুমাত্র সুযোগ নির্মূল করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানানো হয়েছে, এবারের গণনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নজরদারি থাকবে প্রতিটি পদক্ষেপে।

অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বলয় পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, গণনাকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভয়মুক্ত করতে ১৬৫ জন অতিরিক্ত ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ এবং ৭৭ জন ‘পুলিশ অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, পুলিশ অবজার্ভাররা কেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা সামলাবেন, তাঁরা কোনওভাবেই গণনা কক্ষের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না।

গণনা টেবিলে কড়া নজরদারি কারচুপির আশঙ্কা মেটাতে প্রতিটি গণনা টেবিলে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কাউন্টিং সুপারভাইজার বা অ্যাসিস্ট্যান্টদের মধ্যে অন্তত একজনকে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মী হতেই হবে। কর্মীদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে তাঁদের মোবাইল নম্বরও জনসমক্ষে আনা যাবে না।

স্মার্ট আইডি কার্ড ও অ্যাপের ব্যবহার এবারের গণনায় সবচেয়ে বড় চমক প্রযুক্তির ব্যবহার। ‘ECINet’ মডিউলের মাধ্যমে কর্মীদের সরকারি তথ্য ও ছবি যাচাই করে একটি বিশেষ অ্যাপের সাহায্যে পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। প্রতিটি আইডি কার্ডে থাকবে কিউআর কোড (QR Code)। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রত্যেকের পরিচয় ওই অ্যাপের তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসার ছাড়া আর কারোর কাছে মোবাইল ফোন থাকা চলবে না।

কমিশনের কড়া নির্দেশিকা: এক নজরে

  • প্রতি রাউন্ড শেষে পর্যবেক্ষককে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ টেবিলের তথ্য নিজে যাচাই করতে হবে।

  • ফর্ম-২০ স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষককে রিটার্নিং অফিসারের টেবিলেই থাকতে হবে।

  • গণনা চলাকালীন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মী বা এজেন্টদের কক্ষের বাইরে যাওয়া নিষেধ।

  • দুই মেদিনীপুর জেলায় গণনার কাজ থেকে সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।