“গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘অবজ়ারভেশন’”-কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মমতা

৪ মে রাজ্যে ভাগ্য নির্ধারণ। তার ঠিক প্রাক্কালে এবার বড়সড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস। ইভিএম নিরাপত্তা এবং গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টের সঙ্গে শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক: সূত্রের খবর, শনিবারের এই মেগা বৈঠকের আগে শুক্রবারই কালীঘাটে অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং গণনাকেন্দ্রে ঠিক কী কী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। সেই আলোচনার নির্যাসই শনিবার ভার্চুয়ালি সমস্ত এজেন্টদের বুঝিয়ে দেবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
স্ট্রংরুম ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান: উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রংরুম তথা শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গিয়ে তিনি দীর্ঘ চার ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মানুষের দেওয়া জনমত সুরক্ষিত রাখতে তিনি জীবন দিয়ে লড়বেন। যদিও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কোনও খামতি নেই এবং ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
গণনাকেন্দ্রের জন্য বিশেষ নির্দেশ: তৃণমূল নেত্রী আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, গণনাকেন্দ্রেও নানা কারচুপি হতে পারে। সেই কারণেই কাউন্টিং এজেন্টদের প্রতি তাঁর বিশেষ বার্তা— গণনা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে এক পা-ও নড়া চলবে না। এই প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র করতেই শনিবারের এই জরুরি সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।
ভোটগণনার আগে কমিশনের কড়া নিয়মাবলী এবং শাসকদলের এই চূড়ান্ত তৎপরতা— সব মিলিয়ে নজর এখন শনিবারের ওই ভার্চুয়াল বৈঠকের দিকে। মমতা-অভিষেক তাঁদের সেনাপতিদের গণনাকেন্দ্রে ঠিক কী বিশেষ ‘মন্ত্র’ দেন, এখন সেটাই দেখার।