“আমি কি বোঝা হয়ে গেছি?” বিজেপির ওপর চরম অভিমানে দল ছাড়ছেন ব্রিজভূষণ? অখিলেশের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা!

যাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল দেশ, যাঁর কারণে অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগীর সাক্ষী মালিককে চোখের জলে খেলার জুতো জোড়া আর মাইক ছেড়ে অবসর নিতে হয়েছিল, সেই দাপুটে নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং কি এবার বিজেপির সঙ্গ ছাড়ছেন? উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ‘কাইজারগঞ্জের দাবাং’ নামে পরিচিত এই প্রাক্তন সাংসদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবের ‘নরম’ সুর সেই জল্পনাকেই উসকে দিচ্ছে।

বিস্ফোরক ব্রিজভূষণ: “আমি কি বোঝা?” সম্প্রতি বিহারের ভাগলপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্রিজভূষণ সিং সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন। কোনো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “যদি আমাকে আজ অকেজো মনে হয়, তবে শুধু বলে দিন যে আমার আর প্রয়োজন নেই। যদি কেউ মনে করেন আমরা বোঝা হয়ে গেছি, তবে ২০২৭ বা ২০২৯ সালের অপেক্ষায় না থেকে এখনই বলুন। আমরা দেখিয়ে দেব যে আমরা কতটা দরকারি।” তাঁর এই অভিমানী সুর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিজেপির অন্দরে বর্তমানে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি।

কেন এই অস্বস্তি? যৌন হয়রানির বিতর্কে বিজেপি কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাকফুটে চলে যাওয়ায় ২০২৪-এর লোকসভায় ব্রিজভূষণকে টিকিট দেওয়া হয়নি। বদলে তাঁর ছেলে করণ ভূষণ সিংকে প্রার্থী করা হয়। ছেলে জিতলেও, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ২০২৯-এ লড়াই করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দলের ‘দূরত্ব বজায় রাখার’ নীতিতে ক্ষুব্ধ ব্রিজভূষণ। বর্তমানে তাঁকে বিজেপির দলীয় কর্মসূচির বদলে বিভিন্ন সামাজিক ও সম্প্রদায়গত অনুষ্ঠানেই বেশি দেখা যাচ্ছে।

অখিলেশের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও ব্রিজভূষণের প্রশংসা: অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে ব্রিজভূষণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সুসম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি ব্রিজভূষণ অখিলেশের রাজনৈতিক মহত্ত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এর পাল্টা হিসেবে অখিলেশও ব্রিজভূষণকে ‘গোন্ডার নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। বৃহস্পতিবার হারদোইতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অখিলেশ অত্যন্ত কৌশলীভাবে জানান, বিজেপির অনগ্রসর ও অপমানিত বোধ করা নেতারা দল ছাড়তে চাইছেন এবং ‘গোন্ডার সেই নেতা’ (ব্রিজভূষণ)-ই এই রাজনৈতিক মোড় ঘোরার পূর্বাভাস দিতে পারবেন।

বিজেপি ত্যাগ কি সহজ? ব্রিজভূষণ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ছিলেন। ফলে পুরনো ঘরে ফেরা তাঁর জন্য অস্বাভাবিক নয়। তবে বাধা রয়েছে পারিবারিক সমীকরণে। তাঁর দুই ছেলে বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদ, মেয়েও বিজেপির হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি তিনি ঝুঁকিতে ফেলবেন? না কি ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বড় কোনও চমক দেবেন, সেটাই এখন দেখার।

রাজনৈতিক ফলাফল: বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিজভূষণের প্রভাব শুধু একটি আসনে সীমাবদ্ধ নয়; গোন্ডা, বাহরাইচ, শ্রাবস্তী এবং অযোধ্যার একাংশে তাঁর বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত তিনি ‘লাল টুপি’ পরেন, তবে তা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ব্রিজভূষণের এই ‘বিশাল কনভয়’ শেষ পর্যন্ত কোন পতাকার নিচে দাঁড়ায়, নজর এখন সেদিকেই।