হঠাৎ নরম সুর! বেজিং সফরের আগে ইরানের ওপর কেন চাপ কমাচ্ছেন ট্রাম্প? নেপথ্যে কি বড় কোনো ডিল?

ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই অনিশ্চয়তা, আর তাঁর রণকৌশলে ফের একবার চমকে গেল গোটা বিশ্ব। ২০২৬-এর মে মাসে বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের আগে ইরান নিয়ে নিজের কড়া অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি কি তবে চিনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির খাতিরে শিথিল হতে চলেছে? আন্তর্জাতিক মহলে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।

নেপথ্যে কী কারণ? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের শক্তির মূল উৎস হলো তার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, যার বড় অংশ আসে ইরান থেকে। অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা চিনের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন মে ১৪-১৫ তারিখের শীর্ষ বৈঠকের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং একটি বড়সড় ‘ট্রেড ডিল’ নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমানোর কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চিন-আমেরিকা নতুন সমীকরণ: রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস এখন চাইছে ইরান ইস্যুতে চিনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে। ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, চিন যদি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে এবং জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখে, তবে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থাকা কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে পারে। এর ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প— একদিকে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বোঝা কমানো।

অস্থিরতা কাটবে কি? যদিও ট্রাম্পের এই নরম মনোভাবকে ঘিরে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, ইরানকে ছাড় দেওয়া মানেই এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব আরও বাড়ানো। তবে ট্রাম্পের এই ‘আর্ট অফ দ্য ডিল’ শেষ পর্যন্ত কী ফল দেয়, তা নির্ভর করছে বেজিং সফরের ওপর।

যদি সত্যিই চিনের জন্য ইরান নীতির পরিবর্তন ঘটে, তবে তা হবে বর্তমান দশকের সবথেকে বড় কূটনৈতিক রদবদল। বর্তমানে গোটা বিশ্বের নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।