পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ৪-৫ টাকা, LPG-সিলিন্ডার নিয়েও এল দুঃসংবাদ!

বিশ্ববাজারের অস্থিরতার আঁচ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে লাগতে চলেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই পেট্রোল ও ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শুধু যানবাহনই নয়, রান্নাঘরের বাজেটেও পড়তে চলেছে কোপ; কারণ ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের (LPG) দামও এক ধাক্কায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেন এই দাম বৃদ্ধি? মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ফলে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ ক্রমশ পাহাড়প্রমাণ হচ্ছে। আমদানিতে খরচ বাড়লেও খুচরো বাজারে দাম স্থির থাকায় সংস্থাগুলো বড়সড় লোকসানের মুখে পড়ছে। এই ক্ষতি সামাল দিতেই কেন্দ্র দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কবে নাগাদ হতে পারে এই ঘোষণা? সরকারি মহলের দাবি, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে চার বছর পর—অর্থাৎ ২০২২ সালের পর—জ্বালানির দামে এত বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলে।
জনজীবনে প্রভাবের আশঙ্কা: জ্বালানির দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে বাজারদরে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক সংসার খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।
ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা: নবান্ন থেকে দিল্লি—সব স্তরেই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। একদিকে তেল সংস্থাগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার। আগামী কয়েক দিন দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এখন দেখার, কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত কত টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।