প্রতিদিন ১০০ বিমান বাতিল! এয়ার ইন্ডিয়ার চরম সিদ্ধান্তে মাথায় হাত যাত্রীদের, টিকিটের দাম কি এবার আকাশ ছোঁবে?

বিমানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে এক দুশ্চিন্তার খবর। আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম আর আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনে বড়সড় কোপ পড়ল বিমান পরিষেবায়। প্রতিদিন গড়ে ১০০টি করে বিমান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। শুক্রবার এই ঘোষণা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মহলে।

কেন এই গণ-বাতিল? এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা জেট ফুয়েলের দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি বিমান সংস্থার মোট খরচের ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানিতে। ফলে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে লাভের মুখ দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়েই প্রতিদিনের ১,১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত কোন রুটগুলো? দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটগুলোতেই কাঁচি চালানো হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দীর্ঘ পথে জ্বালানি খরচ বেশি হলেও লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাচ্ছে। বিশেষ করে:

  • ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা: লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্ক, টরন্টো, সান ফ্রান্সিসকো।

  • অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া: সিডনি, মেলবোর্ন এবং সিঙ্গাপুর। দিল্লি ও মুম্বই থেকে এই শহরগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

যুদ্ধ আর রাজনীতির মারপ্যাঁচ: জ্বালানির দাম ছাড়াও নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা-ইরান সংঘাত। যুদ্ধের উত্তেজনায় বহু বিমানকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে শুধু সময় নয়, বাড়ছে জ্বালানি খরচও। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA) সতর্ক করেছে যে, সরকার যদি জ্বালানির ওপর শুল্ক না কমায়, তবে ইন্ডিগো বা স্পাইসজেটের মতো সংস্থাও একই পথে হাঁটতে পারে।

যাত্রীদের পকেটে কতটা প্রভাব? ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে টিকিটের দামে। চাহিদা বেশি কিন্তু জোগান কম থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরোয়া রুটেও এই তাপ অনুভূত হতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের জন্য আকাশপথ এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল হতে চলেছে।

উপসংহার: টাটা গোষ্ঠী এয়ার ইন্ডিয়াকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করলেও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন দেখার, সরকার জ্বালানির দামে কোনো ছাড় দিয়ে আমজনতার বিমানে চড়ার স্বপ্ন বজায় রাখে কি না। তবে আপাতত টিকিট কাটার আগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।