মেদিনীপুরের ভাগ্য এখন লোহার খাঁচায়! ৪ কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ড্রাগন’ পাহারা, ১ ইঞ্চি নড়চড় হলেই বিপদ

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ। এবার পালা অগ্নিপরীক্ষার। আগামী ৪ মে মেদিনীপুরের ১৫টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তবে তার আগে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন। ইভিএম সংরক্ষিত থাকা স্ট্রংরুমগুলিকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলা জুড়ে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—শেষ হাসি কে হাসবে?
নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার জন্য মোট চারটি হাই-সিকিউরিটি জোন বা গণনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা এমন পর্যায়ে রাখা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া মাছি গলারও উপায় নেই।
কোথায় কোথায় চলছে নজরদারি?
-
মেদিনীপুর শহর: এখানে দুটি কেন্দ্র করা হয়েছে। মেদিনীপুর কলেজে গণনা হবে মেদিনীপুর সদর, শালবনী, গড়বেতা এবং ডেবরা কেন্দ্রের। অন্যদিকে, কলেজিয়েট স্কুলে নির্ধারিত হয়েছে কেশপুর, দাঁতন ও নারায়ণগড়ের ভাগ্য।
-
খড়গপুর: খড়গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে গণনা হবে সদর, গ্রামীণ, সবং, পিংলা ও কেশিয়াড়ির ভোট।
-
ঘাটাল: ঘাটাল কলেজে গণনা হবে ঘাটাল সদর, চন্দ্রকোনা ও দাসপুরের ভোট।
আধা সামরিক বাহিনীর কবজায় স্ট্রংরুম: প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন যাতে নিরাপত্তার কোনো ফাঁক না থাকে। ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।
প্রশাসনের কড়া বার্তা: মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটগণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। ৪ তারিখের মহাযুদ্ধের আগে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে কোনো ধরণের জটলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক গুণ বেশি।
উপসংহার: স্ট্রংরুমের ভেতরে সীলগালা হওয়া ইভিএমগুলো এখন পাহাড়ার ঘেরাটোপে। মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ ৪ তারিখ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি দেখে এটুকু স্পষ্ট—গণনার দিন মেদিনীপুরে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না প্রশাসন।