ফলতয় ১০০% ভোট, কোথাও ইভিএমে রহস্যময় টেপ! বাংলায় ফের ভোট? সন্ধের মধ্যেই বড় ঘোষণা কমিশনের

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন মিটলেও এখনই যবনিকা পড়ছে না ভোট পর্বে। ফের বুথমুখী হতে পারেন রাজ্যের এক বিশাল অংশের ভোটার। ফলতা, ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাটের একাধিক বুথে ভোট প্রক্রিয়ায় চরম গরমিল ধরা পড়ায় পুনর্নির্বাচনের (Re-Poll) জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আজ, শুক্রবার সন্ধের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ল বিস্ফোরক তথ্য: বৃহস্পতিবার রাতভর জেলাগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের নেতৃত্বে চলেছে কড়া স্ক্রুটিনি। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিং এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেনজির কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
কেন এই পুনর্নির্বাচনের খাঁড়া?
-
ফলতার রহস্যময় টেপ: ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমের ওপর টেপ লাগিয়ে রাখার অভিযোগ সামনে এসেছে। দুপুর ১টায় প্রিসাইডিং অফিসার যখন সেই টেপ সরান, ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, ওই বিপুল ভোট নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষেই পড়েছে।
-
অন্ধ সিসিটিভি: নেটওয়ার্ক সমস্যার অজুহাতে ফলতার বহু কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকেও সেই সময় কোনো নজরদারি চালানো সম্ভব হয়নি।
-
১০০ শতাংশ ভোট: ফলতার অন্তত ৩০টি বুথে প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা কমিশনের নজরদারিতে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের আতসকাচে যে কেন্দ্রগুলো: রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিশনের নজরে রয়েছে মূলত তিনটি সংবেদনশীল এলাকা: ১. ফলতা: ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জোর সুপারিশ। ২. ডায়মন্ড হারবার: ৪টি বুথে ফের ভোটের দাবি। ৩. মগরাহাট পশ্চিম: ১১টি বুথে কারচুপির অভিযোগে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
আজই মিলবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্ক্রুটিনির রিপোর্টের ভিত্তিতে যেখানেই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানেই পুনর্নির্বাচন হবে। আজ সন্ধের মধ্যেই জেলাওয়ারী বুথ নম্বর-সহ তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।
উপসংহার: ডিজিটাল নজরদারি এবং ওয়েব কাস্টিং সত্ত্বেও ভোট লুঠের এই অভিযোগ কমিশনের ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, পুনর্নির্বাচনের এই ঘোষণা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।