গণনার আগেই চরম সংঘাত! স্ট্রংরুম বিতর্কে উত্তাল বাংলা, রণকৌশল সাজাতে জরুরি বৈঠকে মমতা-অভিষেক

সোমবার অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগেই রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির উত্তেজনা। ভোট পরবর্তী হিংসার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নির্বাচন কমিশন বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের ‘স্ট্রংরুম সংঘাত’ তুঙ্গে। ইভিএমের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য কারচুপি রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কালিঘাটে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক: সূত্রের খবর, শুক্রবার সকাল থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং গণনার দিনের রণকৌশল নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে কালিঘাটে। বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে যা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি রুখতে অত্যন্ত সতর্ক ঘাসফুল শিবির। মমতা-অভিষেক দুজনেই কড়া নজর রাখছেন প্রতিটি জেলার পরিস্থিতির ওপর।

রণকৌশল সাজাচ্ছেন অভিষেক: আগামীকাল, শনিবার রাজ্যের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার দিন টেবিলের প্রতিটি খুঁটিনাটি কীভাবে নজরে রাখতে হবে, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই বৈঠকে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এজেন্টদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “এক মুহূর্তের জন্যও নজর সরানো চলবে না।”

কেন এই সতর্কতা? বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামপুকুর ও বেলেঘাটার প্রার্থী শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ অভিযোগ তোলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াই ইভিএম খোলার চেষ্টা করছে কমিশন ও বিজেপি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারারাত উত্তপ্ত ছিল শহর। যদিও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, সব ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

তৃণমূলের পালটা চাপ: কমিশনের আশ্বাসেও মন গলছে না শাসকদলের। শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সেন্টারে সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। সোমবার ব্যালট বক্স খোলার আগে পর্যন্ত এই ‘ইভিএম পাহারা’ জারি থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।