“৪ মের পর ওলটপালট বিজেপি!”-নবীন-টিমে বড় চমক, যোগী-সম্রাট মন্ত্রিসভায় কি বাদ পড়ছেন হেভিওয়েটরা?

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল। এই ফলাফল ঘিরেই এখন দেশজুড়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মের ঠিক পরেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্দরে শুরু হতে চলেছে এক বিশাল রদবদল। জাতীয় সংগঠন থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মন্ত্রিসভা— সর্বত্রই বড়সড় পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
যোগী মন্ত্রিসভায় রদবদল ও ২০২৭-এর লক্ষ্য: বিজেপি সূত্রের খবর, মে মাসেই যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায় বহু প্রতীক্ষিত রদবদল এবং সম্প্রসারণ ঘটতে চলেছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেই লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভার খোলনলচে বদলে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। খালি পড়ে থাকা পদগুলো পূরণের পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রীদের দায়িত্বেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধুরীর সরকারে ফেরা এখন প্রায় নিশ্চিত। জাতপাত ও আঞ্চলিক সমীকরণ মিলিয়ে নতুন এক ‘উইনিং টিম’ উপহার দিতে চান যোগী।
বিহারে সম্রাট চৌধুরীর নয়া কৌশল: রদবদলের হাওয়া বইছে বিহারেও। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সব প্রস্তুতি সারা। জেডিইউ-বিজেপি সমঝোতা অনুযায়ী দুই দলই ১৬টি করে মন্ত্রিত্ব পেতে পারে। বর্তমানে সম্রাটের হাতে থাকা অতিরিক্ত দপ্তরগুলো বিজেপির নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। জেডিইউ কোটার মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। লক্ষ্য একটাই— আগামী নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো।
নিতিন নবীনের নয়া টিম ও মহিলা চমক: বিজেপির জাতীয় স্তরেও আসতে চলেছে বড় চমক। খুব দ্রুত সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিম ঘোষিত হতে পারে। এই টিমে ৩৩ শতাংশের বেশি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হতে পারে বলে জোর খবর। অভিজ্ঞ এবং তরুণ প্রজন্মের এক দুর্দান্ত মিশেল তৈরি করাই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
সংগঠনে বড় ‘সার্জারি’: শুধুমাত্র মন্ত্রিসভা নয়, বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত বিজেপি সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুব ও মহিলা মোর্চায় একগুচ্ছ নতুন মুখ নিয়ে আসা হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মে মাসের এই রদবদল স্রেফ প্রশাসনিক রুটিন নয়, বরং ২০২৭-এর বিধানসভা লড়াইয়ের আগে ঘর গুছিয়ে নেওয়ার এক সুপরিকল্পিত কৌশল।
বাংলার ভোটের রেজাল্ট আসার পর বিজেপির এই ‘মে-বিপ্লব’ ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।