“যে লঙ্কায় যায় সে-ই রাবণ হয়!” ৪ মে-র আগে নতুন সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি মমতা শঙ্করের

২০২৬-এর মেগা লড়াই সাঙ্গ। ইভিএম-এ বন্দি হয়ে গিয়েছে বাংলার ভাগ্য। এখন গদিতে কে বসছে—পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন—সেই জল্পনায় যখন শহর থেকে গ্রাম উত্তাল, ঠিক তখনই সরব হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী তথা প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর। নতুন যে সরকারই আসুক না কেন, তাঁদের কাছে কী কী প্রত্যাশা শিল্পীদের? টিভি নাইন বাংলার প্রতিনিধিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক এবং গঠনমূলক মতামত জানালেন এই তারকা।
“লঙ্কায় গেলেই যেন রাবণ না হয়”: মমতা শঙ্করের কথায় ঝরে পড়ল গভীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশা। রাজনীতির গতানুগতিক কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে সম্ভবত তিতিবিরক্ত তিনি। তাই স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, “এটা খেয়াল রাখতে হবে, যে আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—এটা যেন না হয়।” অর্থাৎ ক্ষমতায় গিয়ে জনসেবার কথা ভুলে ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে নতুন সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন তিনি।
ভদ্র ও সভ্য সমাজের ডাক: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শালীনতা ও সৌজন্যের অভাব নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন উঠেছে। মমতা শঙ্কর চান, নতুন সরকার যেন বাংলায় সেই পুরনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, “একটা ভদ্র সভ্য সমাজ যেন গড়তে পারা যায়। যেখানে মুখের ভাষা সংযত হবে, ভালো কাজ দিয়ে তারা প্রমাণ করবে।” তাঁর মতে, কাজ দিয়েই যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া উচিত, স্রেফ বাগাড়ম্বর দিয়ে নয়।
বাংলা দেখাবে ভারতের পথ: শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতের গর্ব পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন তিনি। মমতা শঙ্করের কথায়, “আগে বলা হত বাংলা আজ যা ভাবে গোটা ভারত কাল তাই ভাবে। বাংলা তার কাজ দিয়ে এবার পথ দেখাক। শালিনতা ও ভদ্রতা কী জিনিস, তা শিখিয়ে দিক।” তাঁর সাফ কথা, এই শৃঙ্খলা ফেরাতে যদি সরকারকে কড়া হতে হয়, তবে যেন কড়া হাতেই শাসন করা হয়। মানুষকে অন্ধকারের বদলে আলোর পথে ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে নতুন সরকারকেই।
ভোটের ফল প্রকাশের আগে মমতা শঙ্করের এই ‘ডিমান্ড চার্টার’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, কোনো বিশেষ দলের হয়ে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই নিজের মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন এই শিল্পী। এখন দেখার, ৪ মে-র পর যে-ই মসনদে বসুক না কেন, মমতা শঙ্করের এই ‘ভদ্র ও সভ্য’ সমাজের দাবি কতখানি পূরণ হয়।