ইভিএম-এ আঠা ও সুগন্ধি! ৭৭টি বুথে কি ফের ভোট? খোদ ডায়মন্ড হারবারে হানা দুঁদে পর্যবেক্ষকের

পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষ। গড় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে এক নজিরবিহীন রেকর্ড তৈরি করেছে। কিন্তু এই বিপুল জনজোয়ারের মাঝেই দানা বেঁধেছে ইভিএম কারচুপির গুরুতর সব অভিযোগ। বিশেষ করে ইভিএম-এর বোতামে কালো টেপ, আঠা, কালি এমনকি সুগন্ধি ঢেলে বোতাম জ্যাম করে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং রি-পোল বা পুনর্নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজই ডায়মন্ড হারবারে হানা দিয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত কুমার গুপ্ত।

ডায়মন্ড হারবারে ‘সার্জিক্যাল’ স্ক্রুটিনি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সরাসরি নির্দেশে আজ সকালেই ডায়মন্ড হারবার পৌঁছেছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক। সূত্রের খবর, ফলতা, মগরাহাট এবং সোনারপুরের একাধিক বুথ থেকে ইভিএম জালিয়াতি ও সন্ত্রাসের ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে। জ্ঞানেশ কুমার ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো রকম ঢিলেমি নয়, জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রতিটি অভিযোগের স্ক্রুটিনি করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে রি-পোলের বিষয়ে আজই বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।

৭৭টি বুথে জালিয়াতির ছক!

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, মোট ৭৭টি এমন বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে যেখান থেকে গুরুতর সব অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে:

  • ফলতা: ৩২টি অভিযোগ (সর্বাধিক)

  • ডায়মন্ড হারবার: ২৯টি অভিযোগ

  • মগরাহাট: ১৩টি অভিযোগ

  • বজবজ: ৩টি অভিযোগ

ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএম-এর নির্দিষ্ট কিছু প্রতীকের বোতাম টিপতে বাধা দিতে ব্যবহার করা হয়েছে কালো টেপ ও আঠালো পদার্থ। কমিশনের সাফ কথা, ওয়েব কাস্টিংয়ের ফুটেজ দেখে এই ‘অদৃশ্য’ শয়তানি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বুথে রি-পোল অনিবার্য।

স্ট্রংরুমে ত্রিস্তরীয় রক্ষাকবচ

এদিকে ভোট মিটতেই ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর কমিশন। রাজ্যের ৭ জেলার মধ্যে সর্বাধিক ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে (৯৩.৭৯%)। স্ট্রংরুমগুলিকে মুড়ে ফেলা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ। রাজনৈতিক দলগুলোর সন্দেহ দূর করতে স্ট্রংরুমের বাইরে রাখা হয়েছে সিসিটিভি মনিটর, যেখানে প্রার্থীরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাতে পারবেন।

বাংলার রায় এখন ইভিএম-এ বন্দি। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে কমিশনের এই ‘অপারেশন স্ক্রুটিনি’ শেষ পর্যন্ত কটি বুথে ফের ভোট ডেকে আনে, সেটাই এখন দেখার।