ঋণ নিতে গেলেই কি পকেটে টান? ১৫ শতাংশ কমল ব্যাংক লোন প্রদানের গতি, বড় তথ্য দিল RBI!

সাধারণ মানুষ থেকে বড় ব্যবসায়ী—সবার জন্যই চিন্তার খবর শোনাল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ২০২৬ অর্থবর্ষের শুরুতেই ভারতের ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণ প্রদানের গতিতে বড়সড় ব্রেক লেগেছে। এপ্রিলের প্রথম পাক্ষিক শেষ হতে না হতেই দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধি এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে।

১. পরিসংখ্যানের ধাক্কা: ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকার সংকোচন

রিজার্ভ ব্যাংকের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়া পাক্ষিকে ব্যাংক ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। যেখানে গত অর্থবর্ষের শেষে (৩১ মার্চ) এই বৃদ্ধির হার ছিল ১৫.৯৬ শতাংশ, সেখানে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ১৪.৮৮ শতাংশ। হিসেব বলছে, এই সময়কালে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ প্রদানের পরিমাণ প্রায় ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা সংকুচিত হয়েছে।

২. কেন এই মন্দার মেঘ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দার পিছনে কাজ করছে মূলত তিনটি বড় কারণ:

  • উচ্চ সুদের হার: ক্রমাগত সুদের হার চড়া থাকায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে নতুন করে লোন নেওয়ার উৎসাহ কমছে।

  • ব্যাংকগুলোর বাড়তি সতর্কতা: বিশেষ করে ‘আনসিকিউরড লোন’ বা জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখন অনেক বেশি কঠোর। আরবিআই-এর কড়া নজরদারির কারণে লোন দেওয়ার আগে দশবার ভাবছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

  • টার্গেট পূরণ: মার্চ মাসের শেষে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যালেন্স শিট মেলাতে ঝড়ের গতিতে ঋণ দেয়। এপ্রিল আসতেই সেই গতি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

৩. আমানতের চিত্র ও সরকারি বিনিয়োগ

ঋণ প্রদানের গতি কমলেও, ব্যাংকগুলোতে টাকা জমানোর প্রবণতা কিন্তু বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক আমানত ১২.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬১.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন সাধারণ মানুষকে লোন দেওয়ার চেয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করাকে বেশি নিরাপদ মনে করছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০.৬৪ লক্ষ কোটি টাকায়

৪. ভবিষ্যৎ কী?

টানা সাত মাস ধরে ঋণের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকা অবশ্যই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু এপ্রিলের এই পতন কি দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ইঙ্গিত? জিএসটি কাঠামো যৌক্তিকীকরণের পর ঋণের চাহিদা যে পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল, তা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।