গণতন্ত্রের সুনামি বাংলায়! ২০১১-র রেকর্ড চুরমার করে বুথে বুথে উপচে পড়া ভিড়, ইভিএম-এ কার ভাগ্য বন্দি?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হয়ে থাকল। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের সময় যে উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, এবার তাকেও বহু পিছনে ফেলে দিল বাংলার মানুষ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান দেখে চক্ষু চড়কগাছ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। দুই দফা মিলিয়ে সার্বিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ৯২.৪৭ শতাংশে!
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: এক নজরে
২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪.৪৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফাতেই সেই রেকর্ড ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
-
দ্বিতীয় দফার হার: বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯১.৬৬ শতাংশ।
-
ভোটের গতি: দুপুর ১টা বাজতেই ভোট পড়ে গিয়েছিল ৬১.১১%। বিকেল ৫টায় তা প্রায় ৯০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলে।
জেলাওয়ারী লড়াই: কোথায় কত ভোট? (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত)
এবারের নির্বাচনে জেলাগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দেখা গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ভোটদানের হার শহরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
-
শীর্ষে পূর্ব বর্ধমান: ৯৩.৫১% ভোট দিয়ে রেকর্ড গড়েছে এই জেলা।
-
অন্যান্য জেলা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৯১.৮০%), উত্তর ২৪ পরগনা (৯১.৭৫%) এবং হুগলিতেও (৯১.৫৪%) ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
-
শহরের চিত্র: কলকাতা উত্তরে ৮৯.০৪% এবং কলকাতা দক্ষিণে ৮৭.৪১% ভোট পড়েছে। হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটদানের হার ৮৬.৪৬ শতাংশ।
পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন?
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— এই রেকর্ড ভোটদান কি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার বহিঃপ্রকাশ, নাকি সরকারের ওপর আস্থার প্রতিফলন?
-
নবান্ন না রাইটার্স: বর্তমান শাসক দল কি আবারও নবান্ন থেকে ভিক্ট্রি সাইন দেখাবে? নাকি দীর্ঘকাল আড়ালে থাকা রাইটার্স ভবন থেকেই নতুন কোনো শক্তির পথ চলা শুরু হবে?
-
বিজেপি বনাম তৃণমূল: ২০১১ সালে বামেদের পতন ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৬-এ সেই রেকর্ড ভাঙা ভোট কার কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সম্পাদকের নোট: আট থেকে আশি— দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে ১৮ বছরের নাতনিও আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথে হাজির হয়েছেন। এই বিপুল জনমত প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা সজাগ। সিদ্ধান্ত এখন ইভিএম-এ বন্দি, উত্তর মিলবে ৪ মে।