মদ না ছুঁলেও লিভার হবে শেষ! এই ৫টি বদভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনছে মারণ রোগ

আমরা সাধারণত মনে করি, প্রচুর মদ্যপান করলেই কেবল লিভার নষ্ট হয়। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)-এ আক্রান্ত। অর্থাৎ, মদ না খেয়েও লিভারের বারোটা বাজছে। প্রখ্যাত প্যাথোলজিস্ট ডঃ সোনাল সাক্সেনা জানিয়েছেন এমন ৫টি কারণ, যা নিঃশব্দে আপনার লিভারকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

১. ভুল খাদ্যাভ্যাস ও চিনির নেশা

মিষ্টি পানীয় (সফট ড্রিঙ্কস), প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং অতিরিক্ত ভাজা খাবার লিভারের প্রধান শত্রু। অতিরিক্ত চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট লিভারে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। একে চিকিৎসা পরিভাষায় MASLD বলা হয়, যা ধীরে ধীরে লিভারে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে।

২. অলস জীবনযাপন ও স্থূলতা

যাঁদের কাজ মূলত বসে বসে এবং যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাঁদের লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ সরাসরি লিভারের কোষে গিয়ে চর্বি জমিয়ে দেয়। সমীক্ষা বলছে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও এখন এই সমস্যা মহামারির মতো ছড়াচ্ছে।

৩. ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোম

টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের লিভারের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৬০-৭০ শতাংশ বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে লিভার অতিরিক্ত গ্লুকোজকে চর্বিতে রূপান্তর করতে শুরু করে। সাথে উচ্চ রক্তচাপ ও হাই কোলেস্টেরল থাকলে বিপদ দ্বিগুণ।

৪. ভাইরাল হেপাটাইটিস (B এবং C)

মদ ছাড়াই লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের অন্যতম বড় কারণ হলো হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এই ভাইরাস শরীরে বছরের পর বছর বাসা বেঁধে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ভারতের নাগরিক।

৫. ওষুধের অপব্যবহার ও সাপ্লিমেন্ট

অকারণে ব্যথানাশক (Painkillers) ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ভেষজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ লিভারের জন্য বিষতুল্য। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে গিয়ে লিভার নিজেই যখন এই সব রাসায়নিকের চাপে পিষ্ট হয়, তখন স্থায়ী ক্ষতি অনিবার্য হয়ে পড়ে।


সুস্থ থাকার টিপস:

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।

  • চিনি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ডায়েট থেকে কমিয়ে দিন।

  • হেপাটাইটিস প্রতিরোধের টিকা নিন।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

সম্পাদকের নোট: লিভার শরীরের পাওয়ার হাউস। একে অবহেলা করা মানে পুরো শরীরকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। সময় থাকতে সচেতন হোন।