মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপের ছোঁয়া সোনার বাজারে! চড়চড়িয়ে দাম বাড়ার পর কেন নামল ধস? খোলসা করলেন বিশেষজ্ঞরা

গত কয়েকদিনের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর সোনার বাজারে। টানা দুই দিনে বড়সড় পতনের মুখ দেখল মূল্যবান এই ধাতু। দিল্লির বুলিয়ন মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩,৩০০ টাকা। বুধবার এক দিনেই সোনার দর প্রতি ১০ গ্রামে কমেছে ১,৫০০ টাকা।
এক নজরে আজকের বাজার দর (২৯ এপ্রিল, ২০২৬):
| ধাতু | পরিমাণ | বর্তমান দাম (কর সহ) | দামের পরিবর্তন |
| সোনা (৯৯.৯%) | প্রতি ১০ গ্রাম | ১,৫২,৮০০ টাকা | ₹১,৫০০ হ্রাস ↓ |
| রুপো | প্রতি কেজি | ২,৪৪,৫০০ টাকা | ₹৫০০ বৃদ্ধি ↑ |
কেন আচমকা এই পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
১. আন্তর্জাতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২. ফেডারেল রিজার্ভের প্রভাব: মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর কড়া নজর রাখছেন লগ্নিকারীরা। ডলার শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনায় অনেকেই সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন (Profit Booking)।
৩. জ্বালানির দাম: তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো কড়া নীতি বজায় রাখবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সোনার দামে।
বাড়ছে সোনার চাহিদা
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) একটি রিপোর্ট বলছে, দাম আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও ভারতে সোনার চাহিদা কমেনি। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সোনার চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে প্রায় ১৫১ টন সোনা কিনেছেন ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা।
বিশেষজ্ঞের রায়: এলকেপি সিকিউরিটিজের যতীন ত্রিবেদীর মতে, ডলারের শক্তি বাড়লে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত হয়ে যায়। আপাতত লগ্নিকারীদের নজর ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
মনে রাখবেন: সোনার দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই বড় বিনিয়োগ বা গয়না কেনার আগে আজকের বাজার দর অবশ্যই যাচাই করে নিন।