ভবানীপুরে ‘গুন্ডারাজ’ চলছে! ববির বাড়িতে মধ্যরাতে পুলিশি হানায় অগ্নিশর্মা মমতা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই তপ্ত তিলোত্তমা। নিজের গড় ভবানীপুরে সকাল থেকেই বুথ পরিদর্শনে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী— কাউকেই রেয়াত করলেন না তিনি। তাঁর সাফ দাবি, ভবানীপুরে ভোটের নামে ‘সন্ত্রাস’ চালানো হচ্ছে।
“এটা কি গুন্ডারাজ?”— প্রশ্ন মমতার
সকাল থেকে ভবানীপুরের অলিগলি ঘোরার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন:
তৃণমূলের সব পতাকা ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।
৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বহিরাগতদের এনে এলাকায় ভয় দেখানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “বেছে বেছে শুধু তৃণমূল কর্মীদেরই কেন তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এটা কি গুন্ডারাজ? এভাবে কি গণতান্ত্রিক দেশে ভোট হয়?”
মাঝরাতে ফিরহাদের বাড়িতে হানা, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
এদিন সকালে চেতলায় গিয়ে ফিরহাদ (ববি) হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকরা গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেছেন। মমতার কথায়, “বাড়ির মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। ববিকে হেনস্থা করার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের যুব সভাপতিকেও সকালে গ্রেফতার করা হয়েছিল, পরে ববি গিয়ে ছাড়িয়ে আনে।”
“বাংলার পুলিশ নয়, বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছে”
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যকে চেনেন না এমন পুলিশ অফিসারদের বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পর্যবেক্ষকরা থানায় থানায় গিয়ে তৃণমূল এজেন্টদের গ্রেফতার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। নিজের শারীরিক অবস্থার পরোয়া না করে মমতা জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে গত মঙ্গলবার সারারাত তিনি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সজাগ ছিলেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘অতিসক্রিয়তা’ এবং কমিশনের কড়া নজরদারির মাঝে ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধ এখন আক্ষরিক অর্থেই সম্মুখ সমরে পরিণত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তোলপাড়।