রানওয়েতে তালা পরার উপক্রম! এয়ার ইন্ডিয়া-ইন্ডিগোর আর্তনাদ, আকাশপথে কি তবে বড়সড় বিপর্যয়?

ভারতীয় আকাশে কি এবার শঙ্কার কালো মেঘ? যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল আমজনতার পকেটে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ (ATF)-এর দাম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া, দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট যৌথভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে চরম বার্তা পাঠিয়েছে।
সঙ্কটের মূলে কেন এই অগ্নিমূল্য? আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA) কেন্দ্রকে দেওয়া চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ানো হচ্ছে, সেই লোকসানের বোঝা আর টানা সম্ভব নয়।
-
আন্তর্জাতিক রুটে বিপর্যয়: কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় রুটে জ্বালানির দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ালেও, আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে তা একধাক্কায় ৭৩ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।
-
বিমানের টিকিট কি দুর্মূল্য হবে? সংস্থাগুলোর দাবি, এই বিপুল খরচ সামলাতে হলে হয় বিমান বাতিল করতে হবে, নতুবা ভাড়ায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাতে হবে।
মোদী সরকারের কাছে তিন দাবি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং সংস্থাগুলোকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এফআইএ তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে: ১. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় রুটে জ্বালানির দামের ফারাক কমিয়ে তা সমান করতে হবে। ২. জ্বালানির ওপর থাকা ১১ শতাংশ শুল্ক (Excise Duty) আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। ৩. কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে সরাসরি আর্থিক হস্তক্ষেপ করতে হবে।
মাটিতেই থমকে যাবে বিমান? বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচ এখন বিমান চালানোর মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। যদি কেন্দ্র দ্রুত কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে বহু গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যত বাড়বে, ভারতের বিমান পরিষেবা খাত ততটাই অনিশ্চয়তার দিকে এগোবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ‘এসওএস’ (SOS) বার্তার পর নবান্ন বা সাউথ ব্লক থেকে কী সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে।