বিপজ্জনক মোড়ে পৃথিবী! হিমালয়ের হিমবাহ গলতেই হাহাকার, আপনিও কি জলসংকটের শিকার হতে চলেছেন? জানুন আসল সত্য

যে হিমালয়কে আমরা ‘বরফের মুকুট’ বলে চিনি, সেই মুকুট আজ ক্ষয়িষ্ণু। জলবায়ু পরিবর্তনের করাল থাবায় দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে হিমালয়। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা রিপোর্টে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা তথ্য— হিমালয়ের এই পানিশূন্যতা আগামী দিনে এশিয়ার অন্তত ২০০ কোটি মানুষের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে দিতে পারে।
কেন শুকিয়ে যাচ্ছে হিমালয়? বিজ্ঞানীদের দাবি, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে গত এক দশকে হিমালয়ের হিমবাহগুলো আগের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত হারে গলছে। এর ফলে নদীগুলোতে এখন পানির ঢল নামলেও, অদূর ভবিষ্যতে এই উৎসগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। ‘হিন্দু কুশ হিমালয়’ অঞ্চলের এই বরফ গলে যাওয়া মানেই গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র এবং ইয়াংসি-র মতো ১০টি বড় নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়া।
বিপন্ন ২০০ কোটি জীবন: হিমালয় থেকে আসা এই নদীগুলোর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল ভারত, বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল জনপদ।
-
কৃষিকাজ: সেচের জল না থাকায় ফসলের উৎপাদন লাটে উঠবে।
-
বিদ্যুৎ: হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেখা দেবে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
-
পানীয় জল: ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানীয় জলের জন্য হাহাকার শুরু হবে।
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা: ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD)-এর মতে, ২০২৬ সালের এই উষ্ণতা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এই শতকের শেষ নাগাদ হিমালয়ের ৮০ শতাংশ বরফ উধাও হয়ে যাবে। যার অর্থ হলো— জল নিয়ে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
হিমালয়ের এই কান্না কি বিশ্বনেতাদের কানে পৌঁছাবে? নাকি তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর বুকে কেবল ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবে তুষারাবৃত এই পাহাড়ের গল্প? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা আছে।