সম্মতিসূচক দীর্ঘ সম্পর্ক কি ধর্ষণ? মামলার শুনানিতে বড় পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না—একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আজমগড়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের মামলায় তাঁকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন দেওয়ার সময় আদালত এই রায় দেয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
আবেদনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আজমগড়ের সিধারি থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির (বর্তমানে বিএনএসএস) বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জনৈক এক বিধবা মহিলা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বন্দুকের মুখে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। তবে গ্রেফতারি এড়াতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তের আইনজীবী।

জবানবন্দিতেই মিলল অসঙ্গতি:
বিচারপতি রাজীব লোচন শুক্লার একক বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। আদালত লক্ষ্য করে যে:

এফআইআর বনাম জবানবন্দি: পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর-এ বন্দুক দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া (বিএনএসএস ১৮৩ ধারা) জবানবন্দিতে সম্পর্কটি সম্পূর্ণ আলাদা মোড় নেয়।

প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত: ভুক্তভোগী নিজেই স্বীকার করেছেন যে ২০২২ সাল থেকে ফোনে তাঁর সাথে অভিযুক্তের যোগাযোগ ছিল এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ: ডাক্তারি পরীক্ষার সময়ও জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে ২০২৪ সাল থেকে তাঁরা সম্পর্কে ছিলেন।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত জানায়, ভুক্তভোগী একজন প্রাপ্তবয়স্ক বিধবা এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। তিনি নিজের ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা রাখেন। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই সম্পর্ককে আদালত ‘প্রেমের সম্পর্ক’ হিসেবেই দেখছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, “যদি প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের সম্মতিতে দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকেন, তবে সেই সম্পর্কের মাঝপথে কোনো মনোমালিন্য হলে তাকে ধর্ষণ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।”

জামিন মঞ্জুর:
আদালত আরও লক্ষ্য করে যে, আবেদনকারীর কোনো পুরনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং এফআইআর-এর বিবরণের সঙ্গে ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দির ব্যাপক অমিল রয়েছে। প্রসিকিউশনের সাজানো গল্পের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে আদালত অভিযুক্তের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে অভিযুক্তকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায় বর্তমান সময়ে লিভ-ইন রিলেশনশিপ এবং দীর্ঘকালীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নিরসনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।