রেকর্ড ব্রেকিং ৫০০০ পয়েন্ট লাফ! ট্রাম্প-ইরান শান্তিদূত হতেই কেন চড়চড়িয়ে বাড়ছে পাকিস্তানের শেয়ার বাজার?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শান্তির জল্পনা উসকে যেতেই তার বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়ল করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার খবরে সোমবার সকালে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে (PSX) রীতিমতো ধস নামানো তেজ লক্ষ্য করা গেল। বিনিয়োগকারীদের বিপুল আস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে সূচক।
রেকর্ড উচ্চতায় KSE-100
এদিন লেনদেন চলাকালীন বেঞ্চমার্ক KSE-100 সূচক এক ধাক্কায় ৫,০০০ পয়েন্টেরও বেশি লাফ দিয়ে ১৭০,৬৪০.২৭ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটিই বাজারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। মূলত ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের গোপন বৈঠকের খবরের পরেই লগ্নিকারীরা দেদার শেয়ার কিনতে শুরু করেন।
কেন এই ঊর্ধ্বমুখী দৌড়?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
-
তেল সরবরাহের দুশ্চিন্তা মুক্তি: ইরান ও আমেরিকার সংঘাত মিটলে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সুবিধা: পাকিস্তান একটি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তেলের দাম কমলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমবে—এই আশায় বুক বাঁধছেন বিনিয়োগকারীরা।
-
ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে মূলধন প্রবাহ বাড়ে, যার সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে পাকিস্তান।
সব সেক্টরেই খুশির হাওয়া
শেয়ার বাজারের এই জয়জয়কার কেবল একটি খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাংকিং সেক্টর থেকে শুরু করে প্রযুক্তি এবং টেলিকম—সব খাতেই ব্যাপক কেনাকাটা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বড় বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো (Institutional Investors) ব্লু-চিপ শেয়ারগুলোতে বিপুল পরিমাণ লগ্নি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে: “বাজার সবসময় প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে চলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার খবরটি বিনিয়োগকারীদের মনে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস জোগাচ্ছে। যদি সত্যিই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে এই সূচক আরও অনেক দূর যেতে পারে।”
আপাতত সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে। শান্তির এই দৌড় পাকিস্তান তথা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির চাকা কতটা ঘোরাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।