প্রাণঘাতী হামলার ঠিক পরেই ধুন্ধুমার! ভরা সাক্ষাৎকারে সাংবাদিককে চরম আক্রমণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের, কেন এই রণমূর্তি?

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সেই রুদ্ধশ্বাস রাত এখনো ভুলতে পারছে না আমেরিকা। কিন্তু সেই ভয়াবহ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিবিএস নিউজের (CBS News) এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমি কোনো ধর্ষক নই!”

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

গত শনিবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি নিয়ে হোটেলের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হোটেলের বলরুমের কাছে ঢুকে পড়ে এবং অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সশরীরে ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। গত দুই বছরে ট্রাম্পের ওপর এটি তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা।

সাংবাদিকের সঙ্গে বাদানুবাদ

ঘটনার পর রবিবার সিবিএস নিউজের সাংবাদিক নোরা ও’ডোনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসেন ট্রাম্প। সাক্ষাতকারের সময় ও’ডোনেল যখন হামলাকারী অ্যালেনের লেখা ‘ম্যানিফেস্টো’ থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন—যেখানে ‘ধর্ষক’ বা ‘পেডোফাইল’ শব্দগুলো ছিল—তখনই নিয়ন্ত্রণ হারান ট্রাম্প। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত জঘন্য মানসিকতার বলেই একজন ‘অসুস্থ’ ব্যক্তির প্রলাপ তাকে পড়ে শোনাচ্ছে।

ট্রাম্পের কড়া জবাব:

  • চরিত্র হননের চেষ্টা: ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো যৌন অপরাধের সাথে যুক্ত নন।

  • এপস্টাইন প্রসঙ্গ: মেজাজ হারিয়ে তিনি জেফরি এপস্টাইনের নাম টেনে এনে দাবি করেন, তাঁর বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারাই বরং ওই ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

  • বিরোধীদের তোপ: ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘ঘৃণ্য ভাষণ’ বা হেট স্পিচের কারণেই এই উগ্রবাদী যুবক তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

“আমি নিজেই পরিস্থিতি দেখতে চেয়েছিলাম”

গুলি চলার সময় সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বেশ সাহসিকতার পরিচয় দেন। রসিকতার ছলে তিনি জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে সরিয়ে নিতে চাইলেও তিনি নিজেই পরিস্থিতি দেখতে চেয়েছিলেন এবং তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। একইসঙ্গে কঠিন পরিস্থিতিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাহসিকতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎকার কেবল একটি হামলার বিবরণ নয়, বরং সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্পের এই রণমূর্তি আগামী নির্বাচনে তাঁর প্রচারের সুর আরও চড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।