৩০ মে পর্যন্ত অ্যারেস্ট করা বারণ! ভবানীপুরে বিস্ফোরক মমতা, ফাঁস করলেন পুলিশের গোপন ‘ছক’?

ভোটের ময়দানে শেষ রবিবারের উত্তাপ চরমে! একদিকে পদযাত্রা, অন্যদিকে পরপর জনসভা— দিনভর ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ল্যান্সডাউন থেকে কালীঘাট পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে ভবানীপুরের সভামঞ্চ থেকে যে বিস্ফোরক অভিযোগ তিনি আনলেন, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

পুলিশ ও গ্রেফতারি নিয়ে বড় দাবি: এদিন ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার সভা থেকে সরাসরি বিজেপি ও পুলিশের একাংশকে নিশানা করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করানোর চেষ্টা চলছে। মমতা বলেন, “লোকাল থানার পুলিশকে বলছে, ওকে অ্যারেস্ট করো! কিন্তু কোর্টের অর্ডার আছে, ৩০ মে পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না। স্টে করা হয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যাঁরা গ্রেফতারি চালাচ্ছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “পাপ বাপকেও ছাড়ে না, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”

সীমান্ত দিয়ে বন্দুক ও টাকা ঢোকানোর অভিযোগ: ভোটের মুখে রাজ্যে অস্ত্র ও কালো টাকা ঢুকছে বলে গুরুতর দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ:

  • ওড়িশা ও বিহার সীমান্ত ব্যবহার করে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ টাকা ও বন্দুক ঢোকানো হচ্ছে।

  • ড্রাগ পাচার করা হচ্ছে অশান্তি ছড়ানোর জন্য।

  • নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে নাকা চেকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিজেপি কোটি কোটি টাকা ঢোকাতে পারে।

“দিদি লড়াই করতে জানে”: বিজেপিকে ‘ডাকাতের সর্দার’ ও ‘অত্যাচারী’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ থানায় ডেকে মুচলেকা দিতে বললে যেন কেউ তাতে সায় না দেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর অভয়বাণী, “মনে রাখবেন দিদি মরে যায়নি। দিদি লড়াই করতে জানে।”

প্রসঙ্গত, গতকালই মাইক বিভ্রাটের জেরে ভবানীপুরে সভা অসমাপ্ত রেখে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ ফের সেই চেনা মেজাজেই ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ভোটের ঠিক আগে মমতার এই ‘বিস্ফোরক’ সব অভিযোগ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করেছে।

Samrat Das
  • Samrat Das