“ক্লান্তি নেই, মনে হচ্ছে তীর্থযাত্রায় আছি!” বাংলা ছাড়ার আগে খোলা চিঠিতে আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার প্রচার সেরে দিল্লি ফেরার পথে এক অনন্য আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সশরীরে প্রচার শেষ হলেও, ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ অডিও বার্তা ও খোলা চিঠিতে মোদী জানালেন, গত কয়েক দিনের প্রচার তাঁর কাছে কোনও রাজনৈতিক অভিযান ছিল না, ছিল এক পরম ‘তীৰ্থযাত্রা’।
অডিও বার্তায় কী বললেন মোদী? ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের দীর্ঘ এই অডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলার জনগণের মন ছুঁতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “এই প্রচার অভিযানে আমি বিন্দুমাত্র ক্লান্তি অনুভব করিনি। মা কালীর ভক্তদের মাঝে গেলে আমি যেন নতুন করে শক্তি পেতাম।” তিনি আরও জানান, অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে যেমন রামচন্দ্র তাঁকে শক্তি দিয়েছিলেন, বাংলার মানুষের বিপুল ভালোবাসা তাঁকে ঠিক তেমনই এনার্জি দিয়েছে।
২৯ এপ্রিল নতুন নজির গড়ার ডাক: প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, “আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী, ২৯ এপ্রিল আপনাদের সামনে গণতন্ত্রের মন্দিরে জয়ধ্বজা উত্তোলনের সুবর্ণ সুযোগ। আমি বিশ্বাস করি, ওই দিন আপনারা ভোটদানে নতুন নজির গড়বেন।” বাংলার যুবসমাজের জন্য উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি সাফ জানান, নাগরিকরা নিরাপত্তা আর সুযোগ চায়, তাই বাংলায় ‘পরিবর্তন’ এখন সময়ের দাবি।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেই ফেরার অঙ্গীকার: ব্যারাকপুরের জনসভার মতো এখানেও মোদী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ৪ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর তিনি আবারও বাংলায় আসবেন। তবে এবার আর ভোট চাইতে নয়, বরং বাংলায় বিজেপির সম্ভাব্য প্রথম সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বাংলার প্রতি মোদীর টান: মোদী উল্লেখ করেন, বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর আধ্যাত্মিক যোগ অত্যন্ত গভীর। উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেওয়া থেকে শুরু করে জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ— সবটাই তাঁকে অভিভূত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই শেষবেলার ‘আবেগীয় তাস’ দ্বিতীয় দফার ভোটে জনমতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।