ভোটের হারে পুরুষদের গোল দিল মহিলারা! কমিশনের তথ্যে ঘুম উড়ল রাজনৈতিক দলগুলোর, ২৩ কেন্দ্রে বড় অঘটন?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আর সেই তথ্যে উঠে এসেছে এক অভাবনীয় ছবি। দেখা যাচ্ছে, অন্তত ২৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা অনেক বেশি। এমনকি এমন অনেক কেন্দ্র আছে যেখানে মোট ভোটারের তালিকায় পুরুষরা সংখ্যায় বেশি থাকলেও, বুথমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে বাজিমাত করেছেন মহিলারা।
শীতলকুচি ফের শীর্ষে, রেকর্ড ভোটদান:
কমিশনের তথ্য অনুসারে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কোচবিহারের শীতলকুচিতে— ৯৭.৫৩ শতাংশ। এর ঠিক পরেই রয়েছে ভগবানগোলা ও রানিনগর (৯৬.৯৫%)। সব মিলিয়ে ৪৪টি কেন্দ্রে ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ১৪ হাজার বেশি।
ভোটার কমলেও বাড়ল ভোটদাতা!
এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান সামনে এসেছে— দেখা যাচ্ছে আগের চেয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ কমলেও, ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১ লক্ষ! অর্থাৎ, আগে যারা ভোট দিতেন না বা দিতে পারতেন না, এবার তাঁরা দলে দলে বুথে গিয়েছেন। আর এই বিপুল ভোটদানের পেছনে মূল কারিগর বাংলার মহিলারাই।
মহিলা ভোটারদের দাপট যেখানে সবচেয়ে বেশি:
মুর্শিদাবাদ ও কান্দি: কান্দিতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে প্রায় ১৫ হাজার বেশি মহিলা ভোট দিয়েছেন।
মেদিনীপুর ও ঘাটাল: ঘাটালে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার বেশি থাকলেও ভোটদানে ১.২৩ লক্ষ মহিলার বিপরীতে পুরুষ মাত্র ১.১৬ লক্ষ। ডেবরা ও মেদিনীপুর সদরেও একই চিত্র।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ: মালদহ ইংলিশ বাজার, রায়গঞ্জ, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকে শুরু করে পাহাড়ের কার্শিয়াং ও দার্জিলিঙেও পুরুষদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশি হারে ভোট দিয়েছেন মহিলারা। এমনকি ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলেও মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.০৯ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
ভোটের এই চূড়ান্ত হার সামনে আসতেই হিসাব মেলাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল মহিলা ভোটদান কি রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাব, নাকি পরিবর্তনের ডাক? ২৩টি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের এই দাপট কার কপাল খুলবে আর কার কপাল পুড়বে, তা সময়ই বলবে।