তীব্র দহন বনাম আর্সেনিকের মরণকামড়! ভোটের বাংলায় চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার্ত গাইঘাটা, কী করছেন নেতারা?

বাইরে বইছে তীব্র দাবদাহ, আর ভেতরে চলছে রাজনীতির চড়া উত্তাপ। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার গ্রামগুলিতে এখন নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। মাইক ফাটানো বক্তৃতা আর গালভরা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে। কিন্তু প্রচারের এই চাকচিক্যের আড়ালে ঢেকে গিয়েছে এক করুণ বাস্তবতা— প্রতি চুমুকেই বিষ পান করছেন গাইঘাটার হাজার হাজার বাসিন্দা।

আর্সেনিকের অভিশাপ ও ‘বিষাক্ত’ জল: গাইঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। যুগ যুগ ধরে এই বিষাক্ত জল পান করে গ্রামের পর গ্রাম মানুষ চর্মরোগ, লিভারের সমস্যা, এমনকি মারণব্যাধি ক্যানসারের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, “ভোট এলেই পাইপলাইনের প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু ভোট মিটলেই কল থেকে সেই হলুদ দুর্গন্ধযুক্ত আর্সেনিক মেশানো জল বেরোতে থাকে।”

চাতকের প্রতীক্ষা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা: নির্বাচনী মহাযুদ্ধে এবারও মূল ইস্যু হওয়ার কথা ছিল ‘পরিস্রুত পানীয় জল’। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দোষারোপেই ব্যস্ত। কেউ বলছেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, কেউ বা আঙুল তুলছেন রাজ্য প্রশাসনের দিকে। এই কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে গাইঘাটার সাধারণ মানুষ চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন একটু বিশুদ্ধ জলের আসায়। মহিলারা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে অন্য গ্রাম থেকে জল বয়ে আনছেন, যা একবিংশ শতাব্দীর বাংলায় এক চরম পরিহাস।

ভোট বয়কটের সুর: জলের সংকট না মিটলে এবার অনেক জায়গায় ‘ভোট বয়কট’-এর সুর শোনা যাচ্ছে। এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কথায়, “আমাদের জীবনের দাম যদি এক গ্লাস পরিষ্কার জলের সমান না হয়, তবে আমাদের ভোটের কোনো দাম নেই। এবার আর কথায় চিঁড়ে ভিজবে না, কাজ চাই।”

মাঝে কিছু সজল ধারা বা পানীয় জল প্রকল্প শুরু হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে ক্ষোভের বারুদ এখন গাইঘাটার ঘরে ঘরে। নেতারা যখন উন্নয়নের ফিরিস্তি দিচ্ছেন, সাধারণ মানুষ তখন হাতে খালি বালতি আর চোখে জল নিয়ে বিচার চাইছেন।

এক নজরে গাইঘাটার জল-চিত্র:

  • দশকের পর দশক আর্সেনিক সমস্যায় জেরবার কয়েক হাজার পরিবার।

  • পরিস্রুত জলের অভাবে বাড়ছে পঙ্গুত্ব ও অকাল মৃত্যুর হার।

  • রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে আজও উপেক্ষিত বেঁচে থাকার এই মৌলিক অধিকার।