নেতাদের পকেটে ভোট, গ্রামের পেটে বিষ! পানীয় জলের সংকটে জেরবার গাইঘাটাবাসীর ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি

বাইরে বইছে তীব্র দাবদাহ, আর ভেতরে চলছে রাজনীতির চড়া উত্তাপ। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই গাইঘাটার গ্রামগুলিতে এখন নেতাদের যাতায়াত বেড়েছে। মাইক ফাটানো বক্তৃতা আর গালভরা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে। কিন্তু বাস্তবটা বড়ই নিষ্ঠুর। প্রচারের এই চাকচিক্যের আড়ালে ঢেকে গিয়েছে এক করুণ দৃশ্য— প্রতি চুমুকেই বিষ পান করছেন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার হাজার হাজার বাসিন্দা।

আর্সেনিকের অভিশাপ: গাইঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। যুগ যুগ ধরে এই বিষাক্ত জল পান করে গ্রামের পর গ্রাম মানুষ চর্মরোগ, এমনকি মারণব্যাধি ক্যান্সারের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, “ভোট এলেই পাইপলাইনের প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু ভোট মিটলেই কল থেকে সেই হলুদ বিষাক্ত জল বেরোতে থাকে।”

নেতাদের প্রতিশ্রুতি বনাম চাতকের প্রতীক্ষা: ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে এবারও মূল ইস্যু হওয়ার কথা ছিল ‘পরিচ্ছন্ন পানীয় জল’। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দোষারোপ করছে— কেউ বলছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, কেউ বলছে রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু এই কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে গাইঘাটার সাধারণ মানুষ চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন একটু বিশুদ্ধ জলের আসায়। মহিলারা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে অন্য গ্রাম থেকে জল বয়ে আনছেন, যা একবিংশ শতাব্দীর বাংলায় এক চরম পরিহাস।

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ: জলের সংকট না মিটলে এবার অনেক জায়গায় ‘ভোট বয়কট’-এর সুর শোনা যাচ্ছে। এক গ্রামবাসীর কথায়, “আমাদের জীবনের দাম যদি আধ লিটার পরিষ্কার জলের সমান না হয়, তবে আমাদের ভোটের কোনো দাম নেই। এবার আর কথায় চিঁড়ে ভিজবে না।”

প্রশাসনিক উদাসীনতা? মাঝে কিছু জল প্রকল্প শুরু হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পাইপ লাইন বসলেও জল পৌঁছায়নি অনেক পাড়ায়। ফলে ক্ষোভের বারুদ এখন গাইঘাটার ঘরে ঘরে। নেতারা যখন উন্নয়নের ফিরিস্তি দিচ্ছেন, সাধারণ মানুষ তখন হাতে খালি বালতি আর চোখে জল নিয়ে বিচার চাইছেন।

এক নজরে গাইঘাটার জল-চিত্র:

  • কয়েক দশক ধরে আর্সেনিক সমস্যায় জেরবার কয়েক হাজার পরিবার।

  • পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে বাড়ছে মারণ রোগের প্রকোপ।

  • রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে উপেক্ষিত সাধারণের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা।