‘আজ রাতে গুলি চলবেই!’—হামলার আগেই কীভাবে জানতেন প্রেস সেক্রেটারি? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’। হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই অভিজাত অনুষ্ঠানে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে উপস্থিত আড়াই হাজারেরও বেশি অতিথির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স।
রণক্ষেত্র হিলটন হোটেল: টেবিলের নিচে প্রাণরক্ষা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনুষ্ঠান চলাকালীন গুলির শব্দ শোনা মাত্রই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রায় ২,৬০০ জন অতিথি প্রাণ বাঁচাতে ডাইনিং টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। হোটেলের কর্মচারীরাও যে যেদিকে পারেন পালাতে শুরু করেন। চারিদিকে তখন একটাই চিৎকার— “নিচে শুয়ে পড়ুন!”। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস মুহূর্তের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ঘিরে ফেলে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
রহস্যময় ভাইরাল ভিডিও: আগে থেকেই কি ছক কষা ছিল?
পুরো ঘটনার মাঝে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট-এর একটি ভিডিও। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে (Shots will be fired)।”
লিভিট আসলে ট্রাম্পের ভাষণের ধার ও রাজনৈতিক বাদানুবাদ বোঝাতে রূপক অর্থে ‘গুলি ছোড়া’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে এর কিছুক্ষণ পরই সত্যি সত্যি গুলি চললে নেটিজেনদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— এই হামলা কি তবে পূর্বপরিকল্পিত?
হামলাকারী গ্রেপ্তার, মুখ খুললেন ট্রাম্প
ঘটনার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করেছে সিক্রেট সার্ভিস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, “সবাই নিরাপদ আছেন। সিক্রেট সার্ভিস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। আমি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলাম, তবে আপাতত নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে চলছি।”
ওয়াশিংটনে থমথমে পরিবেশ
এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর এখনো স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই অনুষ্ঠানে কীভাবে বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।