“মমতার বিরুদ্ধে ED-CBI নেই কেন?”-শ্রীরামপুরে দাঁড়িয়ে মোদী-দিদি ‘সেটিং’ ফাঁস করলেন রাহুল!

লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মুখে বাংলায় এসে রণংদেহি মেজাজে রাহুল গান্ধী। শনিবার শ্রীরামপুরে কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একই বন্ধনীতে রেখে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। সরাসরি ‘সেটিং’ শব্দ ব্যবহার না করলেও, রাহুল স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন যে বাংলায় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে তলায় তলায় ‘বোঝাপড়া’ রয়েছে।

‘দিদির ওপর আক্রমণ হয় না কেন?’ প্রশ্ন রাহুলের

এদিন নিজের লড়াইয়ের খতিয়ান তুলে ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি জামিনে রয়েছি। বিজেপি আমার ঘর কেড়ে নিয়েছে, সাংসদ পদ কেড়ে নিয়েছে। ৩৬টি মামলা রয়েছে আমার বিরুদ্ধে। ইডি আমাকে ৫ দিন ধরে ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। কিন্তু মমতাজির বিরুদ্ধে ক’টা মামলা আছে? কেন ইডি-সিবিআই তাঁর ধারেকাছে যায় না?”

এরপরই এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে রাহুল দাবি করেন, “মমতাজি কখনও সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেন না। তিনি লড়াই করছেন না বলেই মোদীজি তাঁকে আক্রমণ করেন না। ভোটের সময় মোদীজি বাংলায় এসে দিদির বিরুদ্ধে দু-চার কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই আর একটাও কথা বলবেন না। একমাত্র কংগ্রেসই আদর্শের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।”

আরজি কর ও বেকারত্ব ইস্যুতে আক্রমণ

রাজ্য সরকারকে বিঁধে রাহুল আরও বলেন, “২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও কাউকে কাজ দেননি। আজ বাংলার ৮৪ লক্ষ বেকার যুবক ভাতার জন্য আবেদন করে বসে আছেন। বাংলা আজ ধ্বংসের মুখে।”

শুধু তাই নয়, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সরব হয়ে রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর দলে যেমন মহিলাদের ওপর অত্যাচার হয়, বাংলাতেও আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদেরই আশ্রয় দিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। দিদি যদি দুর্নীতি না করতেন আর আরজি করের মতো ঘটনায় প্রশ্রয় না দিতেন, তবে বাংলায় বিজেপির কোনো স্থান হতো না।”

শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। জোট রাজনীতির সমীকরণ ছাপিয়ে মমতাকে রাহুলের এই সরাসরি আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।