“ভদ্র-শিক্ষিতরা বিজেপি করে না!” অপরাধীদের নতুন ঠিকানা নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক

প্রথম দফার ভোট মিটতেই দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ল ঘাসফুল শিবির। শুক্রবার হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের জনসভা থেকে গেরুয়া শিবিরকে কার্যত তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি কর্মীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

বিজেপি মানেই কি ‘অপরাধীদের আশ্রয়স্থল’? এদিন সভামঞ্চ থেকে অভিষেক দাবি করেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা এবং রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, “আগে চোর, ডাকাত বা ধর্ষকেরা অপরাধ করলে জেলে যেত, আর এখন তারা সোজাসুজি বিজেপিতে যোগ দেয়।” এখানেই না থেমে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা নিজের পাড়ায় বা এলাকায় তাকিয়ে দেখুন, কোনও ভদ্র, সভ্য, মার্জিত বা শিক্ষিত লোক বিজেপি করে না। যত চোর, দুর্নীতিগ্রস্ত, মদ্যপ, বেইমান আর গদ্দার রয়েছে— তাদের একমাত্র ঠিকানা এখন বিজেপি।”

প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কটাক্ষ হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী রবীন্দ্র হাজরাকে লক্ষ্য করে অভিষেক বলেন, যার কাছ থেকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিল, আজ তাকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। তৃণমূলের ত্যাজ্য নেতাদের নিয়ে বিজেপি দল গঠন করছে— এই অভিযোগ তুলে তিনি মন্তব্য করেন, “আলুর বস্তার পচা আলু বা পেঁয়াজের বস্তার পচা পেঁয়াজ যেমন মানুষ ফেলে দেয়, তৃণমূলও তেমন এদের ফেলে দিয়েছে। বিজেপি সেই সব আবর্জনা নিয়ে জগাখিচুড়ি বানিয়ে আপনাদের খাওয়াতে চাইছে। সাবধান, এই জগাখিচুড়ি খেলে আপনাদের রাজনৈতিক পেট খারাপ হবে!”

অমিত শাহ বনাম মমতা: গোল্লার লড়াই? অন্যদিকে, দিল্লির হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহ নিউটাউনে এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছেন, প্রথম দফার ৯২ শতাংশ ভোটই তৃণমূলের বিদায়ের ইঙ্গিত। তাঁর দাবি, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই ১১০টি আসনে জয়ের পথে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া ময়দানের সভা থেকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “এত গর্জন করছেন কেন? আলিপুরদুয়ার থেকে মুর্শিদাবাদ— সব জায়গায় বিজেপি ‘গোল্লা’ পাবে। রেজাল্ট বেরোলে মিলিয়ে নেবেন।”