রক্তস্নান শেয়ার বাজারে! ১০০০ পয়েন্ট হারাল সেনসেক্স, একদিনেই উধাও লক্ষ কোটি টাকা!

সপ্তাহের শেষ লগ্নে এসে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে ভারতীয় শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু হতেই লার্জক্যাপ থেকে স্মলক্যাপ— সব ক্ষেত্রেই শুরু হয় ব্যাপক বিক্রির হিড়িক। দিনের শেষে বিএসই (BSE) সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্টের বড় ধাক্কা খেয়ে ৭৬,৬৬৪-এর ঘরে থিতু হয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-৫০ প্রায় ১.১৪ শতাংশ বা ২৭৫ পয়েন্ট হারিয়ে ২৪ হাজারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র: এক নজরে

সূচক পতন (পয়েন্ট/শতাংশ) বন্ধ হওয়ার অবস্থান
বিএসই সেনসেক্স ↓ ৯৯৯.৭৯ (১.২৯%) ৭৬,৬৬৪.২১
নিফটি ৫০ ↓ ২৭৫.০০ (১.১৪%) ২৩,৮৯৭.৯৫
ইন্ডিয়া ভিক্স ↑ ৬.০৩% (অস্থিরতা বৃদ্ধি) ১৯.৭১

কেন এই মহাধস? ৫টি প্রধান কারণ:

১. আইটি সেক্টরে বড় ধাক্কা: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট সংস্থাগুলি— ইনফোসিস, টিসিএস এবং এইচসিএল টেক-এর দুর্বল ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসের জেরে লগ্নিকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। নিফটি আইটি সূচক একাই ৫ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়ায় পুরো বাজার থমকে যায়।

২. বিদেশি পুঁজির বহির্গমন (FII Outflow): বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা টানা চার দিন ধরে শেয়ার বিক্রি করছেন। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারই প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে, যা বাজারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

৩. অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৬ ডলার ছুঁইছুঁই। তেলের এই আকাশছোঁয়া দাম ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪. অস্থিরতা সূচক বা ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ বৃদ্ধি: বাজারের ভয় এবং অনিশ্চয়তার মাপকাঠি ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ এদিন প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১৯.৭১-এ পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো, বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে আরও বড় ওঠানামার আশঙ্কা করছেন।

৫. বিশ্ববাজারের নেতিবাচক প্রভাব: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন বাজার গত রাতে নিম্নমুখী ছিল। তার রেশ ধরেই এদিন এশীয় বাজারগুলিতেও বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষজ্ঞের মত: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের তুলনায় টাকার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক দিন বড় শেয়ারগুলির ওপর চাপ বজায় রাখতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি লগ্নিকারীদের এই মুহূর্তে সতর্ক হয়ে পা ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।