বকেয়া বিল থাকলেও কাটবে না লাইন! প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের জন্য ‘মসিহা’ যোগী আদিত্যনাথ

তীব্র দহনজ্বালায় জ্বলছে দেশ। এরই মাঝে উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল যোগী সরকার। এবার থেকে বিদ্যুৎ বিল সময়মতো দিতে না পারলেও হুট করে অন্ধকার হয়ে যাবে না আপনার ঘর। অন্তত ৩০ দিন পর্যন্ত পাওয়া যাবে বিশেষ রক্ষা কবচ।

১. এক কিলোওয়াটে বড় ছাড়

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত সাধারণ গৃহস্থের ১ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, তাঁদের বিল বকেয়া থাকলেও টানা ৩০ দিন পর্যন্ত লাইন কাটা যাবে না। অর্থাৎ, হাতে টাকা না থাকলেও গরমের মধ্যে অন্তত এক মাস নিশ্চিন্তে ফ্যান-আলো জ্বালাতে পারবেন তাঁরা।

২. ২ কিলোওয়াট গ্রাহকদের জন্য কী রয়েছে?

শুধু ছোট গ্রাহকই নয়, মাঝারি পরিবারের জন্যও সুখবর দিয়েছেন শক্তি মন্ত্রী অরবিন্দ কুমার শর্মা।

  • ২০০ টাকার ছাড়: ২ কিলোওয়াট কানেকশনের গ্রাহকদের যদি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিল বাকি থাকে, তবে তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

  • মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: সরকারের বক্তব্য, নোটিশ ছাড়া বা সামান্য কারণে গ্রাহকদের লাইন কাটা চলবে না।

৩. লাইন কাটার আগে ৫টি SMS বাধ্যতামূলক

বিদ্যুৎ দফতর এখন আর চাইলেই আপনার ঘরের বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারবে না। নতুন নিয়ম অনুসারে:

  • লাইন কাটার আগে গ্রাহককে ধাপে ধাপে ৫টি SMS অ্যালার্ট পাঠাতে হবে।

  • গ্রাহক যাতে বকেয়া মেটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

  • এক মাসের পুরো বিলিং সাইকেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

“গ্রাহকদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে। এই প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হাত থেকে রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য।” — অরবিন্দ কুমার শর্মা, শক্তি মন্ত্রী, উত্তরপ্রদেশ।

পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে যোগী সরকার:

  • নতুন খুঁটি: রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ নতুন বিদ্যুতের খুঁটি লাগানো হয়েছে।

  • ট্রান্সফর্মার: বিদ্যুতের লোড সামলাতে ট্রান্সফর্মারের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

  • নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: জেলা স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বন্ধ না রাখা হয়।

যোগী সরকারের এই ‘মানবিক’ সিদ্ধান্ত এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে কড়া শাসন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো— উত্তরপ্রদেশ মডেল যেন আবারও নতুন দিশা দেখাচ্ছে।