নীতিন-নবীনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক! আপ ছেড়ে পদ্ম শিবিরে রাঘবের ‘বিশাল বাহিনী’, দেখুন দলত্যাগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

জাতীয় রাজনীতিতে এমন ধামাকা আগে কেউ দেখেনি! অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (AAP) আক্ষরিক অর্থেই মহাপ্রলয় ঘটে গেল। আজ বিকেলে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নীতিন নবীন-এর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি বিজেপি সদর দফতরে পৌঁছে গেলেন রাঘব চাড্ডা। একা নন, সঙ্গে রয়েছেন আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যসভা সাংসদ। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ‘আপ’-এর দুর্গ।
কারা আছেন এই বিস্ফোরক তালিকায়? সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই এখন বিজেপির আঙিনায়। যে নামগুলো নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে:
-
রাঘব চাড্ডা: কেজরিওয়ালের একসময়ের ডান হাত ও দলের পোস্টার বয়।
-
হরভজন সিং: ক্রিকেট কিংবদন্তি ও পাঞ্জাবের প্রভাবশালী সাংসদ।
-
স্বাতী মালিওয়াল: দিল্লির মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন।
-
সন্দীপ পাঠক: আপ-এর প্রধান নির্বাচনী কৌশলী বা স্ট্র্যাটেজিস্ট।
-
অশোক মিত্তাল: লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর তথা সাংসদ।
-
বিক্রমজিৎ সিং সাহানি ও সঞ্জীব অরোরা: পাঞ্জাবের দুই হেভিওয়েট শিল্পপতি ও সাংসদ।
দুই-তৃতীয়াংশের অঙ্ক: সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি একসঙ্গে দল ছাড়লে তাঁদের পদ খারিজ হয় না। রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে ৭ জন সাংসদ একসঙ্গে আসায় এটি আইনিভাবে ‘সংযুক্তিকরণ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ, আপ-এর সংসদীয় দল কার্যত এখন বিজেপির অংশ হতে চলেছে।
বিজেপি সদর দফতরে সাজ সাজ রব: বিজেপি দফতরে নীতিন নবীনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন রাঘব চাড্ডারা। সূত্রের খবর, তাঁদের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দিতে উপস্থিত থাকতে পারেন খোদ অমিত শাহ। দীর্ঘ ১৫ বছরের সঙ্গ ছেড়ে রাঘবের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কেজরিওয়ালকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাল।
দিল্লিতে নতুন সমীকরণ: বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ২০২৬-এর আগে এটি কেবল শুরু। আপ-এর এই বিপুল ভাঙন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কেজরিওয়ালের দুর্গে ফাটল ধরেছে। অন্যদিকে, আপ শিবির থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে গোটা দল যে এই ঘটনায় দিশেহারা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।