আসছে চরম দুর্দিন! প্রশান্ত মহাসাগরে দানবীয় শক্তি বাড়াচ্ছে এল নিনো, ভারতের জন্য কি অপেক্ষা করছে মহামারী ও খরা?

জলবায়ু পরিবর্তনের ইতিহাসে ১৮৭৭-৭৮ সালকে বলা হয় ‘ভয়ঙ্করতম বছর’। সেই সময় এক অতি শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন খরা ও দুর্ভিক্ষে। দেড়শ বছর পর, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আবহাওয়াবিদ ও বিজ্ঞানীরা ফের সেই একই অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছেন। প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠায় জন্ম নিচ্ছে এক ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño), যা ১৮৭৭ সালের সেই মহাপ্রলয়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

কী এই ১৮৭৭-এর স্মৃতি?

১৮৭৭ সালে এল নিনোর প্রভাবে ভারত, চিন এবং ব্রাজিলে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ায় ভারতে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, বর্তমানে সাগরের তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০২৬-এর এই সুপার এল নিনো সেই ধ্বংসলীলাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

সুপার এল নিনোর ভয়ঙ্কর প্রভাব:

বিজ্ঞানীদের মতে, এই অতি শক্তিশালী এল নিনোর ফলে আগামী কয়েক মাস যা যা ঘটতে পারে:

  • রেকর্ড তাপপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

  • মৌসুমি বায়ুর বিপর্যয়: ভারতে বর্ষা অত্যন্ত দুর্বল হতে পারে, যার ফলে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • খাদ্যসংকট: বিশ্বজুড়ে গম, চাল এবং চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ায় আকাশছোঁয়া হতে পারে নিত্যপণ্যের দাম।

  • দাবানল: অস্ট্রেলিয়া এবং আমাজনের জঙ্গলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

কেন একে ‘সুপার’ বলা হচ্ছে?

সাধারণ এল নিনোর চেয়ে এর তীব্রতা অনেক বেশি। নাসার (NASA) স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ জলের স্রোত এতটাই শক্তিশালী যে তা বায়ুমণ্ডলের ওপর স্তরে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন মরুভূমিতে বন্যা হতে পারে, অন্যদিকে চিরসবুজ অরণ্যে দেখা দিতে পারে হাহাকার।

ভারতের জন্য সতর্কতা

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দাবদাহ দীর্ঘস্থায়ী হবে। পানীয় জলের অপচয় বন্ধ করা এবং খরা সহনশীল চাষবাসের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।