“লুকোনোর জায়গা পাবে না তৃণমূলের গুন্ডারা!” ফল ঘোষণার ডেট দিয়ে বারুইপুর থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি মোদির!

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে খাস দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দাঁড়িয়ে কার্যত ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পানিহাটির সভা সেরে সরাসরি বারুইপুরের টংতলা মাঠে পৌঁছান তিনি। যাদবপুর ও জয়নগরের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সেই জনসভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন নমো।
‘মোদি কি গ্যারান্টি’ ও ৪ মে-র হুঁশিয়ারি: এদিন ভাষণের শুরু থেকেই মেজাজে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন:
“লিখে রাখুন, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূলের গুন্ডারা আর লুকোনোর জায়গা পাবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে গত ১৫ বছরের দুর্নীতির হিসেব হবে। এক এক করে সব ফাইল খোলা হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবেই। এটাই মোদির গ্যারান্টি।”
আরজি কর ইস্যুতে সরব প্রধানমন্ত্রী: নারী নিরাপত্তা নিয়ে শাসক দলকে একহাত নিয়েছেন মোদি। আরজি কর-কাণ্ডের ক্ষত উসকে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলার মাটি বরাবর নারীশক্তিকে সম্মান করেছে। কিন্তু আজ এই সরকারের জমানায় মহিলারাই সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীন। বাংলার নারীরাই এবার ইভিএমে এই অপমানের জবাব দেবেন এবং পরিবর্তনের ইতিহাস লিখবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলি:
-
মহাজঙ্গলরাজ: গত ১৫ বছরে বাংলাকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’-এ পরিণত করা হয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
-
দলদাস প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন।
-
রেকর্ড ভোট: প্রথম দফায় রেকর্ড ৯২.৩৫ শতাংশ ভোটদানকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
ভবিষ্যৎ বদলের ডাক: ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, “আপনাদের একটি ভোট শুধু সরকার বদলাবে না, বাংলার আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।” এদিনের সভায় জয়নগর ও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৪ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-ভোল্টেজ সভা বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে দুর্নীতি এবং নারী নিরাপত্তার ইস্যুকে ঢাল করে মোদি যেভাবে আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে দ্বিতীয় দফার লড়াই আরও জমজমাট হয়ে উঠল।
এখন দেখার, ৪ মে-র যে ‘গ্যারান্টি’ প্রধানমন্ত্রী দিয়ে গেলেন, ব্যালট বাক্সে তার প্রতিফলন কতটা ঘটে।