“ভয়মুক্ত পাহাড়! অশান্তির ইতিহাসে নেই নাম, হাসিমুখে ভোটের ময়দানে কর্মীরা— নেপথ্যে কী ম্যাজিক?”

সমতলে যখন ভোটের উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিংসার আশঙ্কা, তখন ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়ল পাহাড়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ের ভোটের ইতিহাসে বড় কোনো সন্ত্রাসের নজির নেই বললেই চলে। আর সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী— সকলেই এখন উৎসবের আমেজে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছেন।
নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী: শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও কোনো রকম খামতি রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। পাহাড়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে বিশাল বাহিনী।
-
কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল: ভোটারদের মনে ভরসা জোগাতে পাহাড়ের অলিতে-গলিতে রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী।
-
QRT (Quick Response Team): দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য মোতায়েন থাকছে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে এই বাহিনী অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত।
-
সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারি: বুথ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে ড্রোনের মাধ্যমেও নজর রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্মীদের আত্মবিশ্বাস: পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের মতে, এখানে রাজনীতির লড়াই আদর্শের, পেশ পেশি শক্তির নয়। ফলে কোনো রকম সন্ত্রাসের ভয় ছাড়াই তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সারছেন। পাহাড়ি জনজাতির এই গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও।
পাহাড়ের মানুষের বার্তা: স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “আমরা চাই শান্তি এবং উন্নয়ন। পাহাড়ের মানুষ বরাবরই শান্তিকামী, তাই ভোটের দিন এখানে কোনো অশান্তির আশঙ্কাই নেই।” পর্যটন মরসুম চলায় পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এক নজরে: সমতলের হিংসার বিপরীতে পাহাড় যেন গণতন্ত্রের এক আদর্শ উদাহরণ। শান্তিতে ভোট দেওয়ার জন্য সবরকম প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।