“সংস্কৃতি বনাম কর্পোরেট লুক! সিঁদুর ও টিপ পরলে চাকরি থাকবে না? এয়ার ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ” প্রতিবেদন: এয়ার ইন্ডিয়ায় ‘নিষিদ্ধ’ সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র! ভারতীয় ঐতিহ্য বিসর্জনের পথে টাটাদের এয়ারলাইন?

বিমানে আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে গিয়ে কি ভারতীয় সংস্কৃতির মূলে আঘাত করছে এয়ার ইন্ডিয়া? টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থায় এয়ার হোস্টেস তথা কেবিন ক্রুদের সাজগোজ নিয়ে জারি হওয়া নতুন এক নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, নতুন এই ‘গ্রুমিং’ নীতিতে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক যেমন— সিঁদুর, টিপ এবং মঙ্গলসূত্র পরার ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।

নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে? এয়ার ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক গ্রুমিং ম্যানুয়াল অনুযায়ী, কেবিন ক্রুদের আন্তর্জাতিক মানের লুক দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • সিঁদুর ও টিপ: বড় বা নজরকাড়া টিপ পরা যাবে না। সিঁদুর পরলেও তা যেন খুব সামান্য হয় এবং চুলের লাইনের আড়ালে থাকে।

  • মঙ্গলসূত্র ও অলঙ্কার: গলায় ভারী মঙ্গলসূত্র বা সোনার হার পরায় ‘আপত্তি’ জানানো হয়েছে। সাজগোজ হতে হবে সম্পূর্ণ ‘প্রফেশনাল’ ও ছিমছাম।

  • ধর্মীয় প্রতীক: কোনো ধরণের বড় ধর্মীয় চিহ্ন বা হাতে সুতো বাঁধা যা ইউনিফর্মের বাইরে দৃশ্যমান হয়, তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিশানায় কি ভারতীয় সংস্কৃতি? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। অনেকের প্রশ্ন, “এয়ার ইন্ডিয়া একসময় ‘মহারাজা’ ইমেজের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বে তুলে ধরত। এখন কেন আধুনিকতার নামে ভারতের ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর বা টিপকে ব্রাত্য করা হচ্ছে?” অনেকেই একে ‘পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ’ বলে তোপ দেগেছেন।

কর্তৃপক্ষের যুক্তি: যদিও এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা দিতে এবং ইউনিফর্মে একতা বজায় রাখতেই এই গ্রুমিং কোড তৈরি করা হয়েছে। যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: প্রশ্ন উঠছে, আধুনিকতা মানেই কি নিজের সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেওয়া? নাকি এয়ার ইন্ডিয়ার এই নতুন লুক বিমান পরিষেবায় নতুন কোনো মানদণ্ড তৈরি করবে?